Opendoor India Layoff
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রিয়েল এস্টেট প্রযুক্তি সংস্থা Opendoor ভারতের কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে সংস্থার ভারতীয় ইউনিটে কর্মরত প্রায় ২৫০ জন কর্মী চাকরি হারাতে চলেছেন। সংস্থার সিইও Kaz Nejatian-এর মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ধাপে ধাপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। এবার সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে ভারতের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সিইও কাজ নেজাটিয়ান বলেন, “আমাদের গ্রাহকেরা মূলত আমেরিকায়। তাই গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কাজগুলোও আমেরিকার কাছাকাছি থাকাই বেশি কার্যকর।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে শুধু গ্রাহকদের অবস্থান নয়, সংস্থার সিদ্ধান্তের পিছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহারও বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। সংস্থার দাবি, নতুন প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ফলে আগে যে কাজের জন্য বড় সংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন হতো, এখন তা অনেক কম জনবল দিয়েই পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।
যদিও কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে কর্মীদের দক্ষতা বা কর্মক্ষমতার কোনও সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট করেছে Opendoor। কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় সংস্থার সিইও ভারতীয় টিমের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁদের অবদানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ, চাকরি খোঁজার সহায়তা এবং স্থানান্তর সংক্রান্ত কিছু সুবিধা দেওয়া হবে। এছাড়া কয়েকজন কর্মীকে সাময়িকভাবে রাখা হতে পারে, যাতে কাজ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিল। গত কয়েক বছরে AI প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে বহু সংস্থা কর্মী সংখ্যা কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর কাজের দিকে ঝুঁকছে। ফলে ভারতের মতো আউটসোর্সিং-নির্ভর কর্মসংস্থান বাজারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব দ্রুত বাড়ছে, তখন Opendoor-এর এই সিদ্ধান্তকে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।