Suvendu Cabinet Portfolio List
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: অবশেষে চূড়ান্ত হল পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে একাধিক দফার আলোচনার পর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বুধবার এই তালিকায় (Suvendu Cabinet Portfolio List) সিলমোহর দেয়। পরে নবান্ন থেকে সরকারি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।
প্রত্যাশিতভাবেই রাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র দফতর নিজের হাতেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি আইন ও বিচার, ভূমি ও ভূমিরাজস্ব, বিদ্যুৎ, তথ্য ও সংস্কৃতি, উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার এবং পার্বত্য বিষয়ক দফতরও তাঁর অধীনেই থাকছে।
স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চিকিৎসক-রাজনীতিক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে। এর আগে নিউ টাউনের রামমন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁর নাম ঘোষণা করেছিলেন। অন্যদিকে শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা ও মানিকতলার বিধায়ক তাপস রায়। তাঁর হাতে থাকছে অচিরাচরিত শক্তি দফতরের দায়িত্বও।
সবচেয়ে বড় চমক এসেছে অর্থ দফতরে। প্রথমদিকে জল্পনা ছিল অর্থ দফতর মুখ্যমন্ত্রী নিজের কাছেই রাখবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বপন দাশগুপ্ত-কেই অর্থমন্ত্রী করা হয়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিশেষ আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত স্বপনের হাতে রাজ্যের অর্থনীতির দায়িত্ব তুলে দেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শিক্ষা দফতরেও এসেছে বড় পরিবর্তন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে দীর্ঘদিন একক শিক্ষামন্ত্রীর অধীনে থাকা শিক্ষা বিভাগকে এবার একাধিক ভাগে ভাগ করেছে নতুন সরকার। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় পেয়েছেন উচ্চশিক্ষা দফতর এবং দীপক বর্মণ হয়েছেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী।
বিজেপি সূত্রের দাবি, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি, নিয়োগ বিতর্ক এবং পাঠ্যক্রম সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের প্রেক্ষিতে শিক্ষা ক্ষেত্রে মৌলিক সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সেই কারণেই শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব আদর্শগতভাবে দলের ঘনিষ্ঠ এবং সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ পেয়েছেন পর্যটন দফতরের দায়িত্ব। শিক্ষাবিদ ও কৃষিবিজ্ঞানী কল্যাণ চক্রবর্তী-র হাতে গিয়েছে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানবিদ্যা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিন দফতর।
এর আগে প্রথম দফায় শপথ নেওয়া পাঁচ মন্ত্রীর দফতর আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। দিলীপ ঘোষ পেয়েছেন পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন ও প্রাণিসম্পদ দফতর। অশোক কীর্তনিয়া খাদ্য ও সরবরাহ, ক্ষুদিরাম টুডু আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন।
প্রথমে অগ্নিমিত্রা পালের হাতে নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মালতী রাভা রায়কে। তাঁর হাতে স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং প্রকল্প নজরদারি দফতরের দায়িত্বও তুলে দেওয়া হয়েছে।
নতুন সরকারের দফতর বণ্টনে (Suvendu Cabinet Portfolio List) শিক্ষা, অর্থ, স্বাস্থ্য ও শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী দিনে প্রশাসনিক ও নীতিগত পরিবর্তনের দিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।