Jahangir Khan Arrested
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ছিলেন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত মুখ। অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর জালে ধরা পড়লেন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। সোমবার নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ফলতা কেন্দ্রকে ঘিরে ভোট-পরবর্তী অশান্তি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা এবং একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছিল। সেই সময় থেকেই জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে একাধিক FIR দায়ের হয়। অভিযোগ ওঠে, ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা এবং এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামীদের যোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে জাহাঙ্গির খানকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন তিনি। ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ সামনে আসার পর নির্বাচন কমিশন ওই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। সেই সময় থেকেই তিনি বিরোধীদের আক্রমণের কেন্দ্রে ছিলেন।
গ্রেফতারের আগে জাহাঙ্গির খান কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা চেয়েছিলেন। আদালত তাঁকে সাময়িক সুরক্ষা দিলেও পরে সেই রক্ষাকবচের মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি। এরপর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে ওঠে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ভোট-পরবর্তী হিংসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অন্যান্য অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলির সূত্র ধরেই তাঁকে খোঁজা হচ্ছিল। অবশেষে নেপাল সীমান্তের কাছে তাঁকে আটক করে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আরও কয়েকটি মামলার সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে জাহাঙ্গির খানের একাধিক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। চাঁদাবাজি, হামলা, ভোট-হিংসা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অভিযোগে তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
এই গ্রেফতারি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন তাৎপর্য তৈরি করেছে। বিরোধীরা দাবি করছে, আইনের হাত অবশেষে জাহাঙ্গির খানের নাগাল পেয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের নেতাদের টার্গেট করা হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক তরজা যাই হোক, নেপাল সীমান্ত থেকে জাহাঙ্গির খানের গ্রেফতারি যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।