Tajpur Deep Sea Port
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: রাজ্যের বহু প্রতীক্ষিত তাজপুর গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প (Tajpur Deep Sea Port) কি ফের গতি পেতে চলেছে? পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্তা করন আদানি-র সাম্প্রতিক বৈঠককে কেন্দ্র করে এমনই জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও শিল্পমহলে।
তাজপুর গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্যাপ্ত জমির অভাব। বন্দর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বিস্তীর্ণ জমি অধিগ্রহণ এবং সংলগ্ন পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একাধিক সমস্যার কথা বিভিন্ন মহলে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাজপুরে পূর্ণাঙ্গ গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা অত্যন্ত কঠিন হতে পারে।
এই কারণেই পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড় (Dadanpatrabar) এলাকাকে বিকল্প স্থান হিসেবে বিবেচনা করার আলোচনা শুরু হয়েছে। সমুদ্র উপকূল সংলগ্ন এই এলাকায় তুলনামূলকভাবে বেশি জমি এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন বন্দর বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া বড় আকারের কনটেনার টার্মিনাল, লজিস্টিক হাব, রেল ও সড়ক সংযোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও দাদনপাত্রবাড় অধিক উপযুক্ত হতে পারে বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের।
বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে করণ আদানির বৈঠক হয়। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে বিদ্যুৎ, লজিস্টিকস, বন্দর এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবুও তাজপুর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বৈঠকের পরদিনই রাজ্য সরকারের সঙ্গে আদানি পোর্টসের একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের খবর সামনে এসেছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিনিয়োগ এবং বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন শিল্পমহলের একাংশ।
তাজপুর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুরে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার এই গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প (Tajpur Deep Sea Port) গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালে প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে আদানি পোর্টস নির্বাচিত হয়েছিল এবং করণ আদানির হাতে লেটার অফ ইনটেন্টও তুলে দেওয়া হয়েছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পটি এগোয়নি। ২০২৫ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকার পুরনো প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে টেন্ডার ডাকার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে আগের চুক্তি কার্যত শেষ হয়ে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে করণ আদানির এই বৈঠককে অনেকেই নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাজপুর বন্দর বাস্তবায়িত হলে কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের উপর চাপ কমবে। পাশাপাশি বৃহৎ মালবাহী জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারবে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ হাজার প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
শুধু বন্দর নয়, আদানি গোষ্ঠীর ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন, সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন, ডেটা সেন্টার এবং অন্যান্য অবকাঠামো খাতে উপস্থিতি রয়েছে। ফলে নতুন সরকারের সঙ্গে এই বৈঠক রাজ্যে বৃহত্তর বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
যদিও সরকার বা আদানি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এখনও তাজপুর প্রকল্প পুনরুজ্জীবন নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবুও রাজনৈতিক মহল এবং শিল্পপতিদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে যে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা এই প্রকল্প নতুন করে বাস্তবায়নের পথে এগোতে পারে।
তবে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রীয় বন্দর মন্ত্রকের তরফে তাজপুরের পরিবর্তে দাদনপাত্রবাড়কে চূড়ান্ত স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত সম্ভাবনা ও আলোচনার স্তরেই রয়েছে। আগামী দিনে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Feasibility Study), পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং বিনিয়োগকারীদের মতামতের উপরই নির্ভর করবে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ গভীর সমুদ্রবন্দরের অবস্থান।