Ritabrata Banerjee 50MLA Support
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। গত কয়েকদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের যে জল্পনা চলছিল, তা মঙ্গলবার আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি নিয়ে বিধানসভায় পৌঁছেছেন বলে খবর। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এই নথিগুলির মধ্যে রয়েছে প্রায় ৫০ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র, যা রাজ্যের শাসক-বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের (Ritabrata Banerjee 50MLA Support) ইঙ্গিত দিতে পারে।
সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার স্পিকারের দপ্তরে একটি চিঠি জমা দিতে পারেন। যদিও এদিন স্পিকার দিল্লিতে থাকায় সেই চিঠি বিধানসভার সচিবের কাছেও জমা দেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ওই চিঠিতে নাকি দাবি করা হয়েছে যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত উত্তরাধিকারী এবং জোড়াফুল প্রতীকের আসল দাবিদার বর্তমান দলীয় নেতৃত্ব নন, বরং বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়কেরাই।
এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—মহারাষ্ট্রে একনাথ শিণ্ডে বা অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বে যে ধরনের দলভাঙন দেখা গিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গেও কি তেমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে? গত কয়েকদিনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য জমা পড়া একটি চিঠিতে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসে। সেই অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তও শুরু হয়েছে। এর পরপরই তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদের দু’জনকে ‘দলবিরোধী কার্যকলাপ’-এর অভিযোগে বহিষ্কার করে।
দলীয় সূত্রের দাবি, ঋতব্রত ও সন্দীপন বারবার দলীয় বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন এবং সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কাজ করছিলেন। অন্যদিকে বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের বক্তব্য, তাঁরা শুধুমাত্র স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এনেছিলেন এবং সেই কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো Mamata Banerjee অভিযোগ করেছেন, রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ তৃণমূলের বিধায়কদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে যাতে তাঁরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে সমর্থন করেন। তিনি দাবি করেছেন, কয়েকজন বিধায়ক তাঁকে এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভায় ৫০ জন বিধায়কের (Ritabrata Banerjee 50MLA Support) সমর্থনপত্র জমা পড়লে তা শুধুমাত্র একটি সাংগঠনিক বিদ্রোহ নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনীতিতে বড় ধরনের পুনর্গঠনের সূচনা হতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত ওই চিঠির সত্যতা, স্বাক্ষরকারীদের পরিচয় বা বিদ্রোহী শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের নজর বিধানসভার দিকে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ আদৌ নতুন কোনও রাজনৈতিক শক্তির জন্ম দেয় কি না, নাকি এটি শুধুই চাপ তৈরির কৌশল—সেই উত্তর মিলবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই।