Blue Collar Jobs India
নয়াদিল্লি: এতদিন ভারতে বেকারত্বের আলোচনা মানেই ছিল ইঞ্জিনিয়ার, আইটি কর্মী বা সাদা-কলারের চাকরিপ্রার্থীদের সমস্যা। কিন্তু আগামী দিনে দেশের সামনে আরও বড় সংকট (Blue Collar Jobs India) দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করলেন শ্রমবাজার বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ভারত প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান, কার্পেন্টার, ড্রাইভার, নার্স এবং কেয়ারগিভারের মতো দক্ষ ব্লু-কলার কর্মীর ঘাটতির মুখে পড়তে পারে।
এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন কানাডাভিত্তিক ম্যাক্রো ট্রেন্ডস রিসার্চ ফার্ম Pinetree-এর প্রতিষ্ঠাতা ঋতেশ জৈন। তাঁর মতে, বিশ্বের ধনী ও উন্নত দেশগুলি দ্রুত বয়স্ক সমাজে পরিণত হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমছে, জন্মহার হ্রাস পাচ্ছে এবং কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে আসছে। ফলে সেই দেশগুলিতে নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহণ এবং বিভিন্ন কারিগরি পেশায় কর্মীর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। আর সেই চাহিদা পূরণের জন্য ভারতীয় কর্মীদের দিকে নজর দিচ্ছে তারা।
জাতিসংঘের জনসংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে মানুষের সংখ্যা গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং আগামী বছরগুলিতে আরও বৃদ্ধি পাবে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং জাপানের মতো দেশগুলিতে ইতিমধ্যেই দক্ষ কারিগরি কর্মীর ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার, মেকানিক, প্লাম্বার এবং কেয়ারগিভারদের মতো পেশাগুলিতে (Blue Collar Jobs India) নিয়োগ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ যুবশক্তির দেশ হলেও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি বড় বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। একদিকে লাখ লাখ যুবক-যুবতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছেন, অন্যদিকে দক্ষ কারিগরি পেশার প্রতি আগ্রহ কমছে। ফলে সাদা-কলারের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে, কিন্তু ব্লু-কলার খাতে দক্ষ কর্মীর সংখ্যা পর্যাপ্ত হারে বাড়ছে না।
ঋতেশ জৈনের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে উন্নত দেশগুলি আরও বেশি সংখ্যায় ভারতীয় ব্লু-কলার কর্মী নিয়োগ শুরু করলে দেশের মধ্যেই এই ধরনের পেশায় লোকের অভাব দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, বৃদ্ধদের পরিচর্যা, নির্মাণ শিল্প এবং পরিবহণ ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে।
অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর প্রসার অনেক সাদা-কলারের চাকরিকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও আশঙ্কা বাড়ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষা এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, বহু প্রশাসনিক, সফটওয়্যার ও তথ্যভিত্তিক কাজ আগামী দশকে স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে। ফলে যেখানে সাদা-কলারের চাকরিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, সেখানে দক্ষ কারিগরি পেশার গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দক্ষতা উন্নয়ন। শুধু ডিগ্রি নয়, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভোকেশনাল শিক্ষা এবং স্কিল ডেভেলপমেন্টের উপর জোর না দিলে ভবিষ্যতে দেশের শ্রমবাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও মেটাতে হবে।
আগামী পাঁচ বছর তাই ভারতের শ্রমবাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে এমন দিনও আসতে পারে যখন একজন দক্ষ প্লাম্বার বা ইলেকট্রিশিয়ান খুঁজে পাওয়া একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার খুঁজে পাওয়ার চেয়েও কঠিন হয়ে উঠবে।