Mamata Banerjee TMC MLAs Pressure
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী Mamata Banerjee। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার পর সোমবার তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি এবং পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে তৃণমূল বিধায়কদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে (Mamata Banerjee TMC MLAs Pressure)। তাঁর দাবি, বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে দেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার, ভয় দেখানো এবং প্রশাসনিক চাপের কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বর্তমানে রাজ্যে কার্যত “পুলিশ রাজ” চলছে। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের একাধিক নেতা, কর্মী এবং বিধায়ককে বিভিন্নভাবে চাপে রাখা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এই অভিযোগ এমন সময় সামনে এল যখন গত কয়েক দিনে তৃণমূলের দুই শীর্ষ নেতা হামলার মুখে পড়েছেন। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে জনরোষের মুখে পড়েন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর উপর ডিম, জুতো এবং পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।
এর ঠিক একদিন পর হুগলিতে বিক্ষোভ চলাকালীন আহত হন তৃণমূল সাংসদ Kalyan Banerjee। তাঁর মাথায় চোট লাগে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকেও তৃণমূল রাজনৈতিক হামলা হিসেবে তুলে ধরেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি (Mamata Banerjee TMC MLAs Pressure) করেন, শুধু হামলাই নয়, তৃণমূল বিধায়কদেরও বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশি চাপ এবং রাজনৈতিক ভয় দেখানোর মাধ্যমে দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দলের বক্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। বরং বিজেপির একাংশের দাবি, তৃণমূলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং সাংগঠনিক সংকটই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে তৃণমূল বিধায়কদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৮০ জনের মধ্যে মাত্র প্রায় ২০ জন বিধায়ক উপস্থিত হওয়ায় বৈঠক কার্যত ভেস্তে যায়। যদিও তৃণমূলের দাবি, বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং হামলার ঘটনার কারণেই অনেক বিধায়ক উপস্থিত থাকতে পারেননি।
পরিস্থিতির প্রতিবাদে ২ জুন কলকাতার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে অবস্থান বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচনের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে তাদের নেতা-কর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
এদিকে রাজ্যে তৃণমূলের অন্দরের সংকট নিয়েও জল্পনা বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন, দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং সই জালিয়াতি বিতর্কও রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়েছে। ফলে হামলা, গ্রেপ্তার, দলীয় অসন্তোষ এবং বিজেপি-তৃণমূল সংঘাত— সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এখন চরম উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছেছে।