ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের শিল্পনগরী নয়ডায় সাম্প্রতিক শ্রমিক বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় Yogi Adityanath-এর নেতৃত্বাধীন সরকার। দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা এবং ওভারটাইমের ন্যায্য পারিশ্রমিকের দাবিতে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ জমছিল। সেই ক্ষোভই হঠাৎ করে বড় আকারের আন্দোলনে রূপ নেয় এবং একসময় তা হিংস্র হয়ে ওঠে। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা অবরোধ, গাড়িতে আগুন লাগানো, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পাথর ছোড়ার মতো ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ার গ্যাস পর্যন্ত ব্যবহার করতে হয়, যার ফলে নয়ডা ও সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
Advertisement
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার দ্রুত একটি অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে ঘোষণা করে যে অদক্ষ, আধা-দক্ষ ও দক্ষ—সব স্তরের শ্রমিকদের জন্য সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ পর্যন্ত মজুরি বৃদ্ধি করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করলেও, শ্রমিক সংগঠনগুলির মতে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। আন্দোলনের মূল দাবি ছিল ন্যূনতম বেতন ₹২০,০০০ নির্ধারণ করা, কিন্তু সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং এই বিষয়ে যে খবর ছড়িয়েছে তা বিভ্রান্তিকর। এই ঘোষণার ফলে শ্রমিকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ বজায় রয়েছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে মাসিক বেতন ₹১৩,০০০ থেকে ₹১৫,০০০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা বর্তমান জীবনযাত্রার খরচের তুলনায় অত্যন্ত কম। পাশাপাশি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানোর অভিযোগও উঠেছে, যেখানে ওভারটাইমের যথাযথ পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। পার্শ্ববর্তী রাজ্য হরিয়ানার তুলনায় কম মজুরি পাওয়া নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে শ্রমিকদের মধ্যে। বাড়িভাড়া, খাদ্যদ্রব্যের দাম ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই অসন্তোষ আরও তীব্র হয়েছে।
Advertisement
এই বিক্ষোভের প্রভাব শুধু শিল্পাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং গোটা শহরের উপর তার প্রভাব পড়ে। নয়ডার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, দিল্লি-নয়ডা সংযোগে তীব্র যানজট তৈরি হয় এবং বহু মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন। শিল্প উৎপাদনেও আংশিক প্রভাব পড়ে, যা অর্থনৈতিক দিক থেকেও উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকার জানিয়েছে যে জাতীয় শ্রম আইন বা লেবার কোড অনুযায়ী মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে এবং শ্রমিক সংগঠন ও শিল্পপতিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজা হবে। তবে এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে ভারতের শিল্পাঞ্চলে মজুরি বৈষম্য, কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিক অধিকার এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। আপাতত ২১ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি পদক্ষেপ হলেও, মূল সমস্যার সমাধান এখনও অধরাই রয়ে গেছে।