• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Putin Anti Ageing Plan

অর্গান প্রিন্টিং থেকে ‘মিনি পিগ’, বার্ধক্য রুখতে ২৬ বিলিয়ন ডলারের মেগা পরিকল্পনায় পুতিন

মানুষের আয়ু বাড়াতে ও বার্ধক্য রুখতে ২৬ বিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাশিয়া। গবেষণায় থাকছে ‘মিনি পিগ’, অর্গান প্রিন্টিং এবং উন্নত বায়োটেকনোলজি। কী এই পরিকল্পনা? জানুন বিস্তারিত।

অর্গান প্রিন্টিং থেকে ‘মিনি পিগ’, বার্ধক্য রুখতে ২৬ বিলিয়ন ডলারের মেগা পরিকল্পনায় পুতিন

Putin Anti Ageing Plan

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 31, 2026 4:04 pm
  • Update:May 31, 2026 4:04 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: রাশিয়ার জনসংখ্যা সংকট এবং দ্রুত বাড়তে থাকা বার্ধক্য সমস্যার মোকাবিলায় বিশাল অ্যান্টি-এজিং বা বার্ধক্য প্রতিরোধ প্রকল্প হাতে নিয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী কয়েক বছরে প্রায় ২.২ ট্রিলিয়ন রুবল বা প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে এই কর্মসূচিতে। লক্ষ্য—রাশিয়ার নাগরিকদের আয়ু বৃদ্ধি, বয়সজনিত রোগ কমানো এবং উন্নত বায়োটেকনোলজির মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন (Putin Anti Ageing Plan) আনা।

রুশ সরকারের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে রয়েছে কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি, জিন-ভিত্তিক চিকিৎসা, টিস্যু পুনর্গঠন প্রযুক্তি, উন্নত বায়োমেডিক্যাল গবেষণা এবং এমনকি ‘অর্গান প্রিন্টিং’-এর মতো ভবিষ্যত প্রযুক্তিও। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকল্পনা সফল হলে তা শুধু রাশিয়ার স্বাস্থ্যখাত নয়, গোটা বিশ্বের বায়োটেকনোলজি গবেষণাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ‘মিনি পিগ’ বা বিশেষ প্রজাতির ক্ষুদ্রাকৃতির শূকর নিয়ে গবেষণা। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই প্রাণীর কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভবিষ্যতে মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যেই জেনেটিকালি পরিবর্তিত শূকর ব্যবহার করে অঙ্গ প্রতিস্থাপন গবেষণা চালাচ্ছে। রাশিয়াও সেই প্রতিযোগিতায় বড় ভূমিকা নিতে চাইছে।

এই কর্মসূচির আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ায় অন্তত ১১টি উন্নত বায়োটেকনোলজি কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে পুনর্জন্মমূলক চিকিৎসা (Regenerative Medicine), কোষভিত্তিক থেরাপি এবং দীর্ঘায়ু সংক্রান্ত গবেষণা পরিচালিত হবে।

রুশ প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে জনসংখ্যা হ্রাস এবং গড় আয়ু সংক্রান্ত সমস্যা ক্রমশ গুরুতর হয়ে উঠছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, অভিবাসন এবং নিম্ন জন্মহারের প্রভাবও জনসংখ্যাগত ভারসাম্যের উপর চাপ তৈরি করেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সুস্থ (Putin Anti Ageing Plan) জীবনকাল বাড়ানোকে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে মস্কো। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বয়সজনিত রোগের চিকিৎসা উন্নত করা, হৃদরোগ ও স্নায়ুরোগের ঝুঁকি কমানো এবং কোষের পুনর্গঠন প্রযুক্তি বিকাশের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। তবে এই প্রকল্প নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। সমালোচকদের একাংশের মতে, যুদ্ধকালীন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। পাশাপাশি অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য প্রাণী ব্যবহারের নৈতিক দিক নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।

তবুও রাশিয়ার এই পরিকল্পনাকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় বায়োটেক বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে মানবজীবনের আয়ু বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ইউরোপের পাশাপাশি এবার বড়সড় বাজি ধরল রাশিয়াও।

আগামী কয়েক বছরে এই প্রকল্প কতটা সফল হয়, সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহল এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

আরও খবর