IT Manager Becomes Auto Driver
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: কর্পোরেট চাকরি, মোটা বেতন, পদোন্নতির দৌড়— অনেকের কাছেই এগুলোই সাফল্যের মাপকাঠি। কিন্তু এক মহিলার জীবনযাত্রার সিদ্ধান্ত (IT Manager Becomes Auto Driver) এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, তিনি আইটি সেক্টরে টানা ৯ বছর ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার পর সেই চাকরি ছেড়ে এখন নিজের অটো-রিকশা চালান। আর তাঁর দাবি, আগের চেয়ে এখন তিনি অনেক বেশি সুখী এবং মানসিকভাবে শান্তিতে আছেন।
ঘটনাটি সামনে আসে উদ্যোক্তা ও মোটিভেশনাল স্পিকার ড. নেজরিন মিডলাজের একটি ভাইরাল ইনস্টাগ্রাম ভিডিওর মাধ্যমে। তিনি একটি অটোতে যাত্রা করার সময় ওই মহিলা চালকের সঙ্গে কথা বলেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে জানা যায়, ওই মহিলা আগে একটি আইটি সংস্থায় ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং প্রায় ৯ বছর কর্পোরেট জগতে কাটিয়েছেন।
মহিলার বক্তব্য অনুযায়ী, কর্পোরেট চাকরির চাপ, মানসিক উদ্বেগ এবং অবিরাম কর্মচাপ তাঁকে ক্লান্ত করে তুলেছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি চাকরি ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত (IT Manager Becomes Auto Driver) নেন। বর্তমানে তিনি নিজের অটো-রিকশা নিজেই চালান এবং মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা উপার্জন করেন। তবে তাঁর কাছে আয়ের অঙ্কের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক শান্তি এবং জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি।
ভিডিওতে ওই মহিলা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং হাসিখুশি ভঙ্গিতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে তাঁর জীবনে আগের তুলনায় অনেক কম চাপ রয়েছে এবং তিনি নিজের কাজকে উপভোগ করেন। তাঁর এই মন্তব্য বহু নেটিজেনের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।
ড. মিডলাজও নিজের পোস্টে লিখেছেন, আমরা অনেক সময় চাকরির পদ, সামাজিক মর্যাদা বা অন্যের চোখে সফল হওয়ার জন্য ছুটে চলি, কিন্তু নিজেদের সত্যিকারের সুখ কোথায়, সেই প্রশ্নটা করতে ভুলে যাই। তাঁর মতে, সব সাফল্যের গল্প একরকম হয় না এবং কখনও কখনও ‘মর্যাদার চেয়ে মানসিক শান্তিকে বেছে নেওয়াই সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত’ হতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও প্রকাশের পর হাজার হাজার মানুষ ওই মহিলার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে বর্তমান সময়ে কর্পোরেট চাকরির চাপ ক্রমশ বাড়ছে এবং অর্থের চেয়ে মানসিক সুস্থতা ও পারিবারিক জীবনের মূল্য অনেক বেশি। আবার কেউ কেউ লিখেছেন, সমাজের প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নিজের পছন্দের জীবন বেছে নেওয়ার সাহস সকলের থাকে না।
এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল যে সাফল্যের কোনও নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। কারও কাছে তা বড় পদ বা উচ্চ বেতন, আবার কারও কাছে মানসিক শান্তি, স্বাধীনতা এবং নিজের পছন্দমতো জীবনযাপন। আর সেই কারণেই এই মহিলা অটোচালকের গল্প আজ লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।