Chinmoy Krishna Das mother funeral
বাংলাদেশের জেলে বন্দি হিন্দু নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁর মা সন্ধ্যা রানি ধর মারা যান। মৃত্যুর আগে অসুস্থ মায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলের আবেদন করা হলেও তা অনুমোদিত হয়নি বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে মায়ের মৃত্যুর পর শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁর প্যারোল মঞ্জুর হয়।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা সন্ধ্যা রানি ধর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ক্যানসার-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে ছেলেকে একবার দেখার জন্য প্যারোলের আবেদন করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে জেলবন্দিকে প্যারোল দেওয়ার আইনি সুযোগ ছিল না।
বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে শেষকৃত্যে ছেলেকে উপস্থিত থাকার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অনুমতিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে পাঁচ ঘণ্টার প্যারোল দেওয়া হয়। তাঁকে হাটহাজারীতে গিয়ে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরে আসতে বলা হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তিনি বিকেলে কারাগার থেকে বেরিয়ে মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দেন এবং পরে নিরাপত্তার মধ্যেই জেলে ফিরে যান। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত পাঁচ ঘণ্টা শেষ হওয়ার আগেই তিনি কারাগারে ফিরে এসেছিলেন।
শেষকৃত্যের সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ অবস্থায় দেখা যায়। মাকে শেষ বিদায় দেওয়ার মুহূর্তে তাঁর চোখে জল দেখা যায়—সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মায়ের মৃত্যুর পরও তাঁকে দ্রুত কারাগারে ফিরতে হয়।
পরিবারের জন্য ঘটনাটি আরও বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে এই কারণে যে, মায়ের জীবিত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পারেননি চিন্ময়।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যার চেষ্টা ও ভাঙচুর-সহ একাধিক মামলা হয়।
তাঁর বিরুদ্ধে মোট ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। কয়েকটি মামলায় জামিন মিললেও অন্য মামলাগুলির আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকায় তিনি এখনও জেলে রয়েছেন। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাঁর জামিনও কার্যকর হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস আগে ইসকনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকারের দাবিতে একাধিক কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন। তাঁর গ্রেফতারের পর চট্টগ্রাম আদালত চত্বরেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার সঙ্গে যুক্ত একটি হত্যা মামলাতেও তাঁর নাম রয়েছে।
মায়ের শেষকৃত্যে পাঁচ ঘণ্টার জন্য মুক্তি পেলেও চিন্ময়ের বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলির আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।