Composite School Grant 2026
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও সরকার-পোষিত বিদ্যালয়গুলির জন্য বড় ঘোষণা। প্রায় তিন বছর পর রাজ্যের ৮০,৩৭৫টি স্কুলে কম্পোজিট স্কুল গ্রান্টের পুরো বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। মোট ₹২৯৬.৬৪ কোটি টাকা এই খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে। স্কুলগুলির অ্যাকাউন্টে নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কম্পোজিট স্কুল গ্রান্ট মূলত স্কুলের দৈনন্দিন পরিচালনা, ছোটখাটো পরিকাঠামোগত মেরামতি ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হয়। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বরাদ্দ সংক্রান্ত টানাপোড়েনের কারণে গত কয়েক বছরে স্কুলগুলি সম্পূর্ণ বরাদ্দ পায়নি। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মোট বরাদ্দের ২৫ শতাংশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে আগের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এবার ২০২৫ সালের পড়ুয়া সংখ্যার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই অর্থ স্কুলগুলির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
কম্পোজিট গ্রান্টের পরিমাণ নির্ধারিত হয় স্কুলের পড়ুয়া সংখ্যার ভিত্তিতে। নির্দেশিকা অনুযায়ী—
ফলে কোনও কোনও স্কুলের ক্ষেত্রে এবার বরাদ্দের অঙ্ক ₹৭৫ হাজার বা তারও বেশি হতে পারে।
কম্পোজিট গ্রান্ট মূলত স্কুলের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য। ছোটখাটো পরিকাঠামোগত মেরামতি ও রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা, পানীয় জলের ব্যবস্থা, শৌচাগার রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ বিল, ইন্টারনেট পরিষেবা, ল্যাবরেটরির প্রয়োজনীয় সামগ্রী, খেলাধুলার সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন ধরনের শিক্ষণ-সহায়ক উপকরণ কেনার মতো কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা যায়।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, কলকাতার মতো বড় শহরের পাশাপাশি সুন্দরবন, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার মতো এলাকার স্কুলগুলির কাছেও এই অর্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক স্কুলে চক, ডাস্টারসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রেও আর্থিক সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
৮০ হাজারের বেশি স্কুলের মধ্যে ₹২৯৬.৬৪ কোটি ভাগ করে দেওয়া হলে গড় হিসাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছনো অর্থের পরিমাণ প্রায় ₹৩৬,৯০০। তবে পড়ুয়ার সংখ্যা অনুযায়ী বরাদ্দ আলাদা হওয়ায় প্রত্যেক স্কুল সমান টাকা পাবে না।
শিক্ষকমহলের একাংশের বক্তব্য, পড়ুয়াদের বিভিন্ন প্রকল্পে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ হলেও স্কুলের দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণের মতো মৌলিক খাতে দীর্ঘদিন অর্থের ঘাটতি ছিল। ফলে এবার সম্পূর্ণ কম্পোজিট গ্রান্ট পৌঁছনোকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
একটি স্কুলের উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, সেখানে তিন বছরে পড়ুয়াদের ট্যাব বা মোবাইল সংক্রান্ত প্রকল্পে প্রায় ₹৭০-৮০ লক্ষ টাকা এসেছে, অথচ স্কুল পরিচালনার জন্য কম্পোজিট গ্রান্টের অংশ হিসেবে প্রতি বছর মাত্র ₹১৮,৭৫০ করে পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি। এবার সেই স্কুলের প্রাপ্য কম্পোজিট গ্রান্ট ₹৭৫,০০০। এই তুলনা থেকেই স্কুল পরিচালনার খাতে বরাদ্দের পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসছে।
তবে পড়ুয়াদের জন্য নির্দিষ্ট প্রকল্পের অর্থ এবং স্কুল পরিচালনার কম্পোজিট গ্রান্ট—দুটি আলাদা খাতের অর্থ। তাই সরাসরি একটির সঙ্গে অন্যটির তুলনা করার ক্ষেত্রে সেই বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন।
এবারের বরাদ্দ নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কেন্দ্রের অংশ এবং রাজ্যের অংশ মিলিয়েই কম্পোজিট গ্রান্টের অর্থ গঠিত হয়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনুদানে কেন্দ্রের অংশ ৬০ শতাংশ এবং রাজ্যের অংশ ৪০ শতাংশ।
ফলে দীর্ঘ সময় পর স্কুলগুলির হাতে পুরো বরাদ্দ পৌঁছনোর ফলে দৈনন্দিন পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ছোটখাটো প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলেই আশা করা হচ্ছে।