Shankhadeep Maity Chess Champion
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের তরুণ দাবাড়ু শঙ্খদীপ মাইতি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় সাফল্য অর্জন করে জেলার মুখ উজ্জ্বল করলেন। ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন (Shankhadeep Maity Chess Champion) হয়ে নজর কাড়লেন তিনি। কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যেও অসাধারণ দক্ষতা ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে বি ক্যাটিগরিতে শিরোপা জয় করেছেন শঙ্খদীপ।
ভুবনেশ্বরে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতায় ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ, উগান্ডাসহ বিশ্বের মোট ২০টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রতিযোগিতার বি ক্যাটিগরিতেই অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৭০০ জন দাবাড়ু। এত বড় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্টে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়ে শীর্ষস্থানে উঠে আসা নিঃসন্দেহে বড় কৃতিত্ব।
জানা গিয়েছে, মোট ৯ রাউন্ডের লড়াই শেষে সর্বাধিক পয়েন্ট সংগ্রহ করে চ্যাম্পিয়ন হন শঙ্খদীপ মাইতি। শুধু ট্রফিই নয়, শিরোপা জয়ের পাশাপাশি তিনি পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। আন্তর্জাতিক দাবার মঞ্চে এটি তাঁর অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শঙ্খদীপের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া তমলুক জুড়ে। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব থেকে শুরু করে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা তাঁর এই কৃতিত্বে গর্বিত। দাবা মহলের অনেকেই মনে করছেন, এই জয় ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শঙ্খদীপকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
প্রতিযোগিতা শেষে শঙ্খদীপ জানান, “এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট। এত বড় প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। এই সাফল্যের জন্য আমি আমার পরিবার, কোচ এবং শুভানুধ্যায়ীদের ধন্যবাদ জানাই।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে দাবাকেই নিজের জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে আরও বড় সাফল্য অর্জন করাই এখন তাঁর লক্ষ্য।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দাবা খেলায় ভারতীয়দের সাফল্য ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্বনাথন আনন্দের পথ ধরে নতুন প্রজন্মের দাবাড়ুরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন। সেই তালিকায় এবার নতুন করে যোগ হল তমলুকের শঙ্খদীপ মাইতির নাম।
পূর্ব মেদিনীপুরের এই তরুণ দাবাড়ুর সাফল্য আগামী দিনে জেলার আরও বহু তরুণ-তরুণীকে দাবা খেলায় উৎসাহিত করবে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা। শঙ্খদীপের এই জয় শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, গোটা বাংলার জন্যও একটি গর্বের মুহূর্ত।