Mukul Chowdhury IPL Knock
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক | স্পোর্টস : কলকাতার Eden Gardens যেন বৃহস্পতিবার রাতে এক নতুন নায়কের জন্ম দেখল। ২১ বছর বয়সী তরুণ ব্যাটার Mukul Chowdhury নিজের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে কার্যত ম্যাচের রূপকথা (Mukul Chowdhury IPL Knock) লিখে দিলেন। Lucknow Super Giants-কে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিতে তিনি মাত্র ২৭ বলে খেলেন ৫৪ রানের ঝড়ো ইনিংস, প্রতিপক্ষ ছিল Kolkata Knight Riders।
ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে ১৭তম ওভারে, যখন Vaibhav Arora-র করা ইয়র্কার লেংথ বলকে এক দুর্দান্ত ‘হেলিকপ্টার শট’-এ ছক্কায় পরিণত করেন মুকুল। সেই শটই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের এই শটের রহস্য ফাঁস করতে গিয়ে মুকুল জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই শট অনুশীলন করছেন।
ধোনির প্রতি নিজের অনুরাগের কথাও খোলাখুলি স্বীকার করেছেন এই তরুণ। MS Dhoni-র ব্যাটিং স্টাইল, বিশেষ করে ইনিংস শেষ করার দক্ষতা, তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। মুকুল বলেন, “ধোনি যেভাবে ইয়র্কার বলকেও ছক্কায় পাঠাতেন, সেটা দেখে আমি এই শট আয়ত্ত করার চেষ্টা করেছি।”
ম্যাচের পরিস্থিতি তখন অত্যন্ত কঠিন—২৪ বলে প্রয়োজন ছিল ৫৪ রান, হাতে মাত্র তিন উইকেট। শুরুটাও ভালো হয়নি, প্রথম পাঁচ বলে আসে মাত্র ১ রান। কিন্তু সেখান থেকেই যেন গিয়ার বদলে ফেলেন মুকুল। পরের ২২ বলে তিনি করেন ৫৩ রান, হাঁকান ৭টি ছক্কা ও ২টি চার। তার এই ইনিংস শুধু ম্যাচ জেতায়নি, বরং আইপিএলের মঞ্চে এক নতুন ফিনিশারের আগমনের বার্তাও দিয়ে দিয়েছে।
নিজের এই বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুকুল বলেন, “আমার শরীর স্বাভাবিকভাবেই একটু শক্তিশালী, কিন্তু আসল পার্থক্যটা আসে অনুশীলন থেকে। আমি প্রতিদিন ১০০-১৫০টি ছক্কা মারার প্র্যাকটিস করি। এতে ব্যাটের গতি ও টাইমিং অনেক উন্নত হয়।” গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে এই কঠোর অনুশীলনের ফলই তিনি এখন পাচ্ছেন বলে জানান।
আইপিএলের আগে Syed Mushtaq Ali Trophy-তেও নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছিলেন মুকুল। রাজস্থানের হয়ে দিল্লির বিরুদ্ধে মাত্র ২৬ বলে অপরাজিত ৬২ রান করে দলকে জিতিয়েছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টে ১৭৩ রান করেন ৫৭.৬৬ গড়ে এবং ১৯৮.৮৫ স্ট্রাইক রেটে—যা তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে।
এই পারফরম্যান্সই নজরে পড়ে Lucknow Super Giants-এর। আইপিএল নিলামে ২.৬ কোটি টাকায় তাকে দলে নেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। দলের কোচ Justin Langer আগেই বলেছিলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মুকুলকে ভারতের অন্যতম ভয়ংকর মিডল-অর্ডার ব্যাটার হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
মুকুল নিজেও স্বীকার করেছেন, ল্যাঙ্গারের এই আস্থা তাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। তিনি বলেন, “এত বড় কোচ যখন আপনার ওপর বিশ্বাস রাখেন, তখন বুঝতে হবে তিনি আপনার মধ্যে কিছু বিশেষ দেখেছেন। অনুশীলনে তিনি আলাদা করে সময় দেন, তার পরামর্শগুলোই কাজে লাগছে।”
ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারীদের সঙ্গেও ল্যাঙ্গার মুকুলকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। তার কথায়, “ও খুবই তরুণ, কিন্তু চোখে ক্ষুধা আছে। ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন জয় পাওয়া ওর জন্য বড় মুহূর্ত।”
সব মিলিয়ে, আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে এই পারফরম্যান্সের পর Mukul Chowdhury-কে ঘিরে প্রত্যাশা এখন অনেকটাই বেড়ে গেছে। তবে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে যে কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে, সেটাও ভালো করেই জানেন তিনি। বাংলার মাটিতে উঠে আসা এই নতুন তারকা এখন কতদূর উড়তে পারেন, সেটাই দেখার।