Mamdani Egypt Robbed Argentina
ক্লাউড টিভি স্পোর্টস ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের পর নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশর “বঞ্চিত” হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য (Mamdani Egypt Robbed Argentina) ঘিরে ফুটবল মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশর প্রথমে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। কিন্তু শেষ দিকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। তবে ম্যাচের একাধিক রেফারিং সিদ্ধান্ত এবং ভিএআর (VAR) ব্যবহারের কারণে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে মিশরীয় শিবির।
ম্যাচের পর নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে জোহরান মামদানি লেখেন, “Egypt were robbed.” অর্থাৎ, তাঁর দাবি মিশর ন্যায্য বিচার পায়নি এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে তারা ম্যাচটি হারতে বাধ্য হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং সমর্থকদের মধ্যে তুমুল আলোচনা শুরু হয়।
অনেক ফুটবল সমর্থক মামদানির বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের দাবি, ভিএআর-এর মাধ্যমে মিশরের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল বাতিল করা হয় এবং শেষ মুহূর্তে সম্ভাব্য একটি পেনাল্টির আবেদনও নাকচ করা হয়। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মতে, ম্যাচের সব সিদ্ধান্তই ছিল ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী।
মিশরের ফুটবল ফেডারেশন (EFA) ইতিমধ্যেই ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে-র বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে। তাদের দাবি, ভিএআর-এর একাধিক সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। তারা ফিফার কাছে ওই রেফারিকে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো থেকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদনও করেছে।
মিশরের প্রধান কোচও ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, মিশরকে ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ফিফা এই অভিযোগের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মন্তব্য খুব একটা দেখা যায় না। তাই নিউ ইয়র্কের মেয়রের এই মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিতর্কে। যদিও তিনি ম্যাচের কোনও সরকারি তদন্তের দাবি জানাননি, তাঁর মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে আলোচনাকে আরও উস্কে দিয়েছে।
এদিকে আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি রেফারিং, ভিএআর এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।