Brazil World Cup Prediction
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ভবিষ্যদ্বাণীর খেলা। কেউ ভরসা রাখছেন সুপারকম্পিউটারের ওপর, কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্লেষণে। তবে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক হাঙর (Brazil World Cup Prediction) !
ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোর বিখ্যাত অ্যাকুয়ারিয়াম ‘অ্যাকুয়ারিও’-র একটি স্ত্রী হাঙর ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আর সেই ঘটনাই এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপের আগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ‘রিতিনহা’ নামের হাঙরটির সামনে দুটি ক্যান রাখা হয়। একটি ক্যানের গায়ে লেখা ছিল ‘Brazil’, অন্যটিতে ‘Morocco’। উপস্থিত দর্শকদের সামনেই হাঙরটি ব্রাজিল লেখা ক্যানটির দিকে এগিয়ে যায় এবং সেটিকেই বেছে নেয়।
এরপরই উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মজা করে বলতে শুরু করেন, ব্রাজিলের জয় নাকি আগেই নিশ্চিত করে দিয়েছে রিতিনহা!
যদিও এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তবুও ফুটবল বিশ্বে প্রাণীদের দিয়ে ম্যাচের ফল অনুমান করার ঐতিহ্য বেশ পুরনো। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ‘পল’ নামের একটি অক্টোপাস সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিল। এরপর প্রায় প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টেই বিভিন্ন প্রাণীকে নিয়ে এমন আয়োজন দেখা গেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হাতি, গরিলা, জিরাফ, পুমা এমনকি হাঙরদের দিয়েও ম্যাচের ফল অনুমানের আয়োজন করা হচ্ছে। মূলত দর্শকদের বিনোদন এবং টুর্নামেন্টের উত্তেজনা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এসব কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল অন্যতম শিরোপা দাবিদার। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি নতুন উদ্যমে মাঠে নামছে ষষ্ঠ শিরোপার খোঁজে। অন্যদিকে মরক্কোও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বিশেষ করে ২০২২ বিশ্বকাপে তাদের ঐতিহাসিক সাফল্য ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল।
তাই ব্রাজিল ও মরক্কোর ম্যাচ নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। এর মধ্যেই রিতিনহার ভবিষ্যদ্বাণী ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি আশার সঞ্চার করেছে।
অবশ্য মাঠের লড়াইয়ের ফল নির্ধারণ হবে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সেই। হাঙরের ভবিষ্যদ্বাণী কতটা সত্যি হয়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর্যন্ত।
তবে একটা বিষয় নিশ্চিত— বিশ্বকাপের উন্মাদনা শুরু হওয়ার আগেই রিওর এই হাঙর ফুটবলপ্রেমীদের মুখে হাসি ফোটাতে সফল হয়েছে।