Mohun Bagan East Bengal Kolkata Derby
এ যেন শুধুই কলকাতা ডার্বি নয়। বরং বাইবেলে বর্ণিত ডেভিড ও গোলিয়থের লড়াইয়ের মতোই এক অসম দ্বৈরথ। সোমবার বারাসত স্টেডিয়ামে কলকাতা লিগের ডার্বিতে মুখোমুখি হচ্ছে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। তবে দুই শিবিরের কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব এবং মানসিক প্রস্তুতি একেবারেই আলাদা।
মোহনবাগানের কাছে এই ডার্বি অনেকটাই সম্মান উদ্ধারের লড়াই। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল চাইছে কলকাতা লিগে এতদিন ধরে যারা নিয়মিত খেলেছেন, সেই তরুণ ফুটবলারদের উপরই আস্থা রাখতে।
মোহনবাগানের এই বাড়তি তাগিদের অন্যতম কারণ গত মরশুমের হতাশা। আইএসএল ট্রফি হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি ডুরান্ড কাপের ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের কাছে ১-৪ গোলে হারতে হয়েছিল সবুজ-মেরুনকে। ফলে সোমবারের ম্যাচ জিতে অন্তত সমর্থকদের কাছে কিছুটা হলেও সম্মান পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া মোহনবাগান।
ময়দানে ঘুরে বেড়ানো খবর অনুযায়ী, ক্লাব ম্যানেজমেন্টের তরফেও দলের কাছে স্পষ্ট বার্তা এসেছে—যেভাবেই হোক ডার্বি জিততে হবে। যদিও এই ম্যাচ জিতলেই কলকাতা লিগ নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে না, তবু ডার্বির ফলাফল সমর্থকদের আবেগে যে বড় প্রভাব ফেলবে, তা স্পষ্ট।
রবিবার নিজেদের মাঠে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরেছেন ছাংতে, আপুইয়া, সাহাল, মনবীরদের মতো ফুটবলাররা। কোচ দিলেমপেরিসও লিগের কোচ বাস্তব রায়কে সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত প্রস্তুতি চালিয়ে গিয়েছেন।
তবে চোট সমস্যা রয়েছে মোহনবাগানে। অনিরুদ্ধ থাপার সামান্য চোটের কারণে তিনি ডার্বির আগের দিনের অনুশীলনে ছিলেন না। ছাংতেকেও সোমবার খেলানো হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল এই ম্যাচকে অনেক বেশি হালকা মেজাজে দেখছে। আইএসএল এবং ডুরান্ড কাপ জয়ের পর লাল-হলুদ শিবিরের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। সেই কারণেই সোমবারের ডার্বিতে সিনিয়রদের পরিবর্তে কলকাতা লিগে নিয়মিত খেলা তরুণদের উপরই আস্থা রাখতে চাইছে ক্লাব।
ইস্টবেঙ্গল শিবিরের যুক্তি, সারা মরশুম তরুণ ফুটবলারদের দিয়ে লিগ খেলানোর পর শুধুমাত্র ডার্বির জন্য সিনিয়রদের নামিয়ে দিলে নিয়মিত খেলা ফুটবলারদের প্রতি অবিচার হবে। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে লিগের ম্যাচ খেলে যারা দলকে সুপার সিক্সে তুলেছে, তাদেরই এবার বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ দিতে চায় ইস্টবেঙ্গল।
গৌরব সাউ, মনোতোষ চাকলাদার, তন্ময় দাসদের মতো তরুণ ফুটবলারদের উপরই তাই ভরসা থাকবে। যদিও ডেভিড, জেসিন টিকে এবং বিষ্ণু-সহ কয়েকজন সিনিয়র ফুটবলার কলকাতা লিগের জন্য নথিভুক্ত রয়েছেন।
কিন্তু কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের নির্দেশ স্পষ্ট—চোটে থাকা বিষ্ণুকে বাদ দিলে বাকি সিনিয়রদের সোমবার বিকেলে নিজেদের মাঠে আইএসএলের প্রস্তুতিতে থাকতে হবে। অর্থাৎ ডার্বির সময়ও সিনিয়রদের নিয়ে হাবাসের আলাদা পরিকল্পনা থাকবে।
আরও একটি প্রশ্ন ঘুরছে—সোমবার ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের কোচের ভূমিকায় থাকবেন কে?
এই মরশুমে লিগের ম্যাচগুলিতে অর্চিষ্মানই দলকে প্রস্তুত করেছেন। তবে ডার্বির আগে শেষ দু’দিন বিনো জর্জ নিজে ফুটবলারদের অনুশীলন করিয়েছেন। ফলে গৌরব সাউ, মনোতোষ, তন্ময়দের মতো তরুণরা শেষ পর্যন্ত কার কোচিংয়ে মাঠে নামবেন, তা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে।
তবে পরিস্থিতি দেখে মনে করা হচ্ছে, ডার্বির দিন অর্চিষ্মানের হাতেই কোচিংয়ের দায়িত্ব থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে সোমবারের ম্যাচটি তাই এক অদ্ভুত আবহ তৈরি করেছে। একদিকে সম্মান উদ্ধারের তাগিদে তারকা-সমৃদ্ধ মোহনবাগান, অন্যদিকে তরুণদের নিয়ে লড়াইয়ে নামা আত্মবিশ্বাসী ইস্টবেঙ্গল। বাইবেলের গল্পে ছোট্ট ডেভিড শেষ পর্যন্ত দৈত্যাকার গোলিয়থকে হারিয়েছিলেন। বারাসতে সোমবারের ডার্বিতে কি তেমনই কোনও চমক অপেক্ষা করছে?
ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান
বারাসত স্টেডিয়াম | বিকাল ৫টা
সরাসরি: নাম্বার টেন স্পোর্টস অ্যাপ