• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Leandro Paredes Red Card

বিশ্বকাপ জয়ের পর রণক্ষেত্র! স্পেনের ফুটবলারের গলা চেপে লাল কার্ড, বিতর্কে মেসির সতীর্থ পারেদেস

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। কিন্তু ট্রফি জয়ের আনন্দের মধ্যেই মাঠে শুরু হয় তুমুল সংঘর্ষ। লিওনেল মেসির সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের এক ফুটবলারের গলা চেপে ধরার অভিযোগে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই লাল কার্ড দেখেন।

বিশ্বকাপ জয়ের পর রণক্ষেত্র! স্পেনের ফুটবলারের গলা চেপে লাল কার্ড, বিতর্কে মেসির সতীর্থ পারেদেস

Leandro Paredes Red Card

Published by: cloud_admin
  • Posted:July 20, 2026 11:51 am
  • Update:July 20, 2026 11:51 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষ হয়েছে। কিন্তু শেষ বাঁশির পর যা ঘটল, তা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল। অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। এরপরই মাঠে শুরু হয় তীব্র উত্তেজনা। সেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লিওনেল মেসির সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে তর্কাতর্কি থেকে শুরু হয়ে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা যায়, পারেদেস স্পেনের এক ফুটবলারের গলা চেপে ধরেছেন। সেই ঘটনার জেরে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান ম্যাচ রেফারি।

বিশ্বকাপ ফাইনালের আবেগে দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে কথার লড়াই নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি অনেক দূর গড়িয়ে যায়। স্পেনের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মাঝেই শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। দুই দলের ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং নিরাপত্তারক্ষীদের মাঠে নেমে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়।

স্পেন অতিরিক্ত সময়ে জয়ের গোল করার পর থেকেই আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের মধ্যে হতাশা স্পষ্ট ছিল। শেষ বাঁশি বাজতেই স্পেনের ফুটবলাররা উদযাপন শুরু করেন। সেই সময় পারেদেস প্রথমে স্পেনের তরুণ মিডফিল্ডার গাভির সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এরপর ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন বলে ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়।

ঘটনার পর স্পেনের একাধিক ফুটবলার পারেদেসকে ঘিরে ধরেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই দলের ফুটবলারদের আলাদা করতে এগিয়ে আসেন ম্যাচ অফিসিয়াল, নিরাপত্তাকর্মী এবং কোচিং স্টাফরা। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও মাঠে নেমে নিজের খেলোয়াড়দের শান্ত করার চেষ্টা করেন।

রেফারি পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করার পর পারেদেসকে লাল কার্ড দেখান। যদিও ম্যাচ তখন শেষ হয়ে গিয়েছিল, তবুও ফিফার নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ-পরবর্তী অসদাচরণের জন্য খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া যায়।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, ম্যাচ চলাকালীনও আর্জেন্টিনা একটি বড় ধাক্কা খেয়েছিল। মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেস দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে লাল কার্ড দেখেন। ফলে অতিরিক্ত সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে। সেই চাপের মধ্যেই ফেরান তোরেসের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন এবং শেষ পর্যন্ত চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ে।

ফাইনালের পর পারেদেসের আচরণ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। কেউ বলছেন, হারের হতাশা থেকেই তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। আবার অনেকের মতে, একজন আন্তর্জাতিক ফুটবলারের কাছে এমন আচরণ কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়। ফুটবল বিশ্লেষকরাও ঘটনাটির তীব্র সমালোচনা করেছেন।

ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটি এই ঘটনার ভিডিও এবং ম্যাচ অফিসিয়ালদের রিপোর্ট খতিয়ে দেখবে বলে জানা যাচ্ছে। প্রয়োজন হলে পারেদেসের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে স্পেনের ফুটবলাররা এই বিতর্ককে গুরুত্ব না দিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দেই মেতে ওঠেন। অধিনায়ক এবং কোচ জানিয়েছেন, মাঠের ঘটনা মাঠেই শেষ হওয়া উচিত। তাঁরা ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনেই মন দিতে চান।

বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচের শেষে এমন অশান্তি ফুটবলপ্রেমীদের হতাশ করেছে। তবে এই ঘটনা আগামী কয়েকদিন আন্তর্জাতিক ফুটবলে অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও খবর