Johan Cruyff Netherlands Football
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: আর কয়েক দিন পরেই পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের মহারণের। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে প্রতিদিন। সেই আবহে বাকি দিনগুলোর প্রতিটিতে বিশ্বকাপের নানা পরিসংখ্যান, ইতিহাস এবং কিংবদন্তিদের (Johan Cruyff Netherlands Football) নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন তুলে ধরা হচ্ছে ক্লাউড টিভির পাঠকদের জন্য।
আজকের পর্বে থাকছেন ডাচ কিংবদন্তি Johan Cruyff— এমন এক ফুটবলার, যিনি শুধু গোল করতেন না, খেলার ধরন বদলে দিয়েছিলেন। তাঁকে অনেকেই বলতেন “দা ক্রিয়েটর”। কারণ, তিনি শুধু আক্রমণ শেষ করতেন না, আক্রমণ তৈরি করতেন।
১৯৭৪ সালের পশ্চিম জার্মানি বিশ্বকাপ ছিল ক্রুইফের একক জাদুর প্রদর্শনী। সেই আসরে নেদারল্যান্ডসের হয়ে তিনি তৈরি করেছিলেন ৩৬টি গোলের সুযোগ, যা আজও বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি আসরে কোনও ফুটবলারের সর্বোচ্চ সুযোগ তৈরির রেকর্ড হিসেবে রয়ে গেছে।
এই তালিকায় তাঁর ঠিক পিছনে রয়েছেন আরেক কিংবদন্তি Diego Maradona। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের পথে মারাদোনা তৈরি করেছিলেন ২৭টি সুযোগ। কিন্তু ক্রুইফের ৩৬-এর রেকর্ড এখনও অক্ষত রয়েছে।
মজার বিষয় হলো, ক্রুইফ বিশ্বকাপে খেলেছেন মাত্র একটি আসর। তবুও সাতটি ম্যাচে তিনি করেছিলেন তিনটি গোল এবং তিনটি অ্যাসিস্ট। শুধু তাই নয়, ড্রিবলিং, পাসিং এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অনন্য। তাঁর বিখ্যাত “Cruyff Turn” আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় স্কিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৭৪ বিশ্বকাপে ক্রুইফের নেতৃত্বে নেদারল্যান্ডসের “টোটাল ফুটবল” গোটা বিশ্বকে নতুন এক ফুটবল দর্শনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। মাঠে যে কোনও খেলোয়াড় যে কোনও পজিশনে খেলতে পারবেন— সেই ধারণাকে জনপ্রিয় করে তোলে এই ডাচ দল। যদিও তাদের ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছিল, ট্রফি অবশ্য অধরাই থেকে যায়।
মিউনিখের ফাইনালে স্বাগতিক পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে ভেঙে যায় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। এখনও পর্যন্ত ডাচরা বিশ্বকাপ জিততে পারেনি, কিন্তু ১৯৭৪-এর সেই দল এবং ইয়োহান ক্রুইফের নাম ফুটবল ইতিহাসে স্থায়ীভাবে লেখা রয়েছে।