• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Fifa Brazil vs England 1958

ফুটবল বিশ্বকাপ: প্রথম গোলশূন্য ড্র – ইতিহাস গড়েছিল ব্রাজিল-ইংল্যান্ড ম্যাচ

১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও ইংল্যান্ডের ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলশূন্য ড্র। পরে সেই আসর থেকেই শুরু হয় ব্রাজিলের স্বর্ণযুগ।

ফুটবল বিশ্বকাপ: প্রথম গোলশূন্য ড্র – ইতিহাস গড়েছিল ব্রাজিল-ইংল্যান্ড ম্যাচ

Fifa Brazil vs England 1958

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 25, 2026 1:34 pm
  • Update:May 25, 2026 1:34 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: আর কয়েক দিন পরেই শুরু হতে চলেছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহারণ। বিশ্বকাপকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে প্রতিদিন। সেই আবহে বিশ্বকাপের নানা পরিসংখ্যান ও ইতিহাসের অজানা গল্প নিয়ে বিশেষ ধারাবাহিক প্রকাশ করছে ক্লাউড টিভি। আজকের পর্বে ফিরে দেখা যাক বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলশূন্য ড্র (Fifa Brazil vs England 1958) ম্যাচের গল্প। আজকের ফুটবলে গোলশূন্য ম্যাচ খুব একটা বিরল নয়। কিন্তু বিশ্বকাপের শুরুর দিকে ছবিটা ছিল একেবারে আলাদা। শুরু থেকে টানা কয়েক দশক ধরে বিশ্বকাপ ম্যাচে গোলের দেখা মিলেছিল। এরপর আসে এমন একটি ম্যাচ, যা প্রথমবার স্কোরবোর্ডকে অপরিবর্তিত রেখে ইতিহাসে জায়গা করে নেয়।

বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ২৮ বছর পর, ষষ্ঠ আসরের ১১০তম ম্যাচে প্রথমবার গোলশূন্য ড্রয়ের সাক্ষী হয় ফুটবল বিশ্ব। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল এবং ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচটি শেষ হয় ০-০ ব্যবধানে

মজার বিষয় হলো, শুধু একটি গোলশূন্য ম্যাচ হিসেবেই নয়, ইতিহাসের দিক থেকেও এই ম্যাচটির গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। কারণ, এই দুই দলই পরবর্তী চারটি বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের দখলে নিয়েছিল। ইংল্যান্ড জেতে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ এবং ব্রাজিল জেতে ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ।

এই ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য আরও একটি ভিন্ন রেকর্ড তৈরি করেছিল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম কোনও ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিল ব্রাজিল। তবে পরে এই ঘটনাই যেন আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায় সেলেসাওদের জন্য।

গোলহীন সেই ম্যাচের (Fifa Brazil vs England 1958) পর ব্রাজিল আর পিছনে ফিরে তাকায়নি। এরপর প্রতিটি ম্যাচেই তারা গোলের দেখা পায়। সেই বিশ্বকাপে ধীরে ধীরে নিজেকে তুলে ধরতে শুরু করেন মাত্র ১৭ বছর বয়সী পেলে, যিনি পরবর্তীতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় কিংবদন্তিতে পরিণত হন।

তবে বিশ্বকাপের শুরুটা পেলের জন্য সহজ ছিল না। চোটের কারণে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। দলের ফিজিওথেরাপিস্ট কোচ Vicente Feola-কে জানিয়েছিলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষেও পেলের খেলার মতো পরিস্থিতি নেই।

কিন্তু কোচ ঝুঁকি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে মাঠে নামানো হয় পেলেকে। সেই ম্যাচে ব্রাজিল ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়ে গ্রুপের শীর্ষে ওঠে।

এরপর গ্যারিঞ্চা এবং তরুণ পেলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপের প্রতিটি ধাপ পার করে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। শুধু তাই নয়, চার বছর পর ১৯৬২ সালেও তারা নিজেদের শিরোপা ধরে রাখে।

একটি গোলশূন্য ম্যাচ— কিন্তু সেই ম্যাচের পরই শুরু হয়েছিল ব্রাজিলের স্বর্ণযুগের গল্প।

আরও খবর