East Bengal AFC
এশিয়ার মঞ্চে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে ইস্টবেঙ্গল। ২০২৬-২৭ এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র গ্রুপ পর্বে গ্রুপ ডি-তে জায়গা পেয়েছে কলকাতার লাল-হলুদ। তাদের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে জর্ডানের আল হুসেইন এসসি। রয়েছে ইরাকের আল শর্টা এসসি এবং ওমানের আল সীব ক্লাব। মঙ্গলবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ড্রয়ে এই গ্রুপ চূড়ান্ত হয়েছে।
ইস্টবেঙ্গলের সামনে তাই এবার পশ্চিম এশিয়ার তিন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকতা দেখানোই হবে লাল-হলুদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই ম্যাচগুলির ফলই ঠিক করবে নকআউট পর্বে ইস্টবেঙ্গল যেতে পারবে কি না।
গ্রুপ ডি-তে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম প্রতিপক্ষ জর্ডানের আল হুসেইন। গত মরশুমেও এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-তে দলটি ভালো পারফরম্যান্স করেছিল। ২০২৫-২৬ প্রতিযোগিতায় তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। নকআউটে ইরানের এস্তেগলালের বিরুদ্ধে জয়ও পেয়েছিল তারা।
ইরাকের আল শর্টাও ইস্টবেঙ্গলের জন্য কঠিন পরীক্ষা হতে পারে। এশিয়ার ক্লাব ফুটবলে আল শর্টার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। ইতিমধ্যেই তারা এএফসি-র বড় প্রতিযোগিতায় নিয়মিত খেলেছে। তাই গ্রুপের প্রতিটি ম্যাচেই লাল-হলুদকে সতর্ক থাকতে হবে।
তৃতীয় প্রতিপক্ষ ওমানের আল সীব। এই ক্লাবের সঙ্গেও ইস্টবেঙ্গলের এশীয় ফুটবলে পরিচয় রয়েছে। তাই তিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই আলাদা কৌশল তৈরি করতে হবে কোচিং স্টাফকে।
গ্রুপ পর্বে চারটি দলই একে অপরের বিরুদ্ধে খেলবে। তাই ঘরের মাঠে পয়েন্ট নষ্ট না করাই হবে ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম লক্ষ্য। বিদেশের ম্যাচ থেকেও পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারলে নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা বাড়বে।
গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নিতে ইতিমধ্যেই বড় জয় পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। প্রাথমিক পর্বে কুয়েতের আল-আরাবি এসসির মুখোমুখি হয়েছিল তারা। কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে লাল-হলুদ।
নির্ধারিত সময়ের শেষ দিক পর্যন্ত ম্যাচে পিছিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল। আল-আরাবি ৭৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে যায়। মনে হচ্ছিল, এশীয় অভিযান শুরুতেই থেমে যাবে।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে ম্যাচের ছবি বদলে যায়। ৯০ মিনিটে জয় গুপ্তার হেডে সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
সেখানেই দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে লাল-হলুদ। অতিরিক্ত সময়ে মহম্মদ রশিদ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর ডেভিড লালহ্লানসাঙ্গা ব্যবধান বাড়ান। শেষদিকে রোহিত দানুর গোল আসে। ফলে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ইস্টবেঙ্গল।
এই জয় শুধু গ্রুপ পর্বে যাওয়ার টিকিট দেয়নি। এটি ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হয়ে উঠেছে। আল-আরাবির বিরুদ্ধে এই জয়কে এশীয় মঞ্চে ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম স্মরণীয় প্রত্যাবর্তন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
২০২৬-২৭ এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র গ্রুপ পর্বে এবার ভারতের একমাত্র প্রতিনিধি ইস্টবেঙ্গল। দেশের ক্লাব ফুটবলে তাই তাদের উপর বাড়তি প্রত্যাশা রয়েছে। ২০২৫-২৬ মরশুমে ভারতীয় ফুটবলের সাফল্যের পর এই জায়গা পেয়েছে তারা।
এশিয়ার দ্বিতীয় স্তরের এই ক্লাব প্রতিযোগিতায় এবার লাল-হলুদের সামনে বড় সুযোগ।
গ্রুপ পর্ব পার করতে পারলে আরও শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ আসবে।
একই সঙ্গে ক্লাবটির আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও বাড়বে।
ইস্টবেঙ্গলের জন্য আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। তিন প্রতিপক্ষই পশ্চিম এশিয়ার।
ফলে ভিন্ন আবহাওয়া, ভ্রমণ এবং খেলার ধরন সামলাতে হবে দলকে।
বিশেষ করে আল হুসেইন এবং আল শর্টার মতো দলের বিরুদ্ধে ম্যাচে ভুলের সুযোগ কম।
তবে কলকাতায় নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেললে ইস্টবেঙ্গল বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।
এখন অপেক্ষা গ্রুপ পর্বের সূচির। কোন ম্যাচ কলকাতায় হবে এবং কোন ম্যাচ বিদেশে, তা স্পষ্ট হলে প্রস্তুতির ছবিও পরিষ্কার হবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত। এশিয়ার মঞ্চে ইস্টবেঙ্গলের সামনে এবার বড় পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষায় সফল হলে লাল-হলুদ সমর্থকদের জন্য আরও বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ তৈরি হবে।