• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Alireza Beiranvand

রাস্তায় ঘুমানো থেকে বিশ্বকাপের নায়ক, আলিরেজা বেইরানভান্দের অবিশ্বাস্য জীবনসংগ্রাম

রাস্তায় রাত কাটানো থেকে বিশ্বকাপে ম্যাচসেরা। আলিরেজা বেইরানভান্দের সংগ্রামের গল্প আজ কোটি ফুটবলপ্রেমীর অনুপ্রেরণা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে দুর্দান্ত গোলকিপিং করে ইরানের নায়ক হয়েছেন তিনি।

রাস্তায় ঘুমানো থেকে বিশ্বকাপের নায়ক, আলিরেজা বেইরানভান্দের অবিশ্বাস্য জীবনসংগ্রাম

Alireza Beiranvand

Published by: cloud_admin
  • Posted:June 27, 2026 12:23 pm
  • Update:June 27, 2026 12:23 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: একসময় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তেহরানের রাস্তায় রাত কাটিয়েছেন। কখনও গাড়ি পরিষ্কার করেছেন, কখনও কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। অভাবের তাড়নায় কঠিন জীবনযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বেড়ে উঠেছেন আলিরেজা বেইরানভান্দ। আজ সেই মানুষটিই (Alireza Beiranvand) বিশ্বকাপে ইরানের সবচেয়ে বড় ভরসা।

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে ইরান। ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত গোলকিপিং করে দলের এক পয়েন্ট নিশ্চিত করেন বেইরানভান্দ। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে বেলজিয়ামের আক্রমণ ঠেকিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন তিনি।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ সারির একটি দলের বিপক্ষে তাঁর এই পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করেছে কেন তিনি ইরানের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক।

তবে বেইরানভান্দের সাফল্যের গল্প শুরু হয়নি সবুজ ঘাসের মাঠে। তাঁর জন্ম ইরানের লোরেস্তান অঞ্চলের এক দরিদ্র যাযাবর পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই সংসারে ছিল চরম অভাব। পরিবারের আর্থিক সংকট ও ফুটবল খেলায় আপত্তির কারণে কিশোর বয়সেই ঘর ছেড়ে তেহরানে চলে যান নিজের স্বপ্ন পূরণের আশায়।

রাজধানীতে এসে শুরু হয় আরও কঠিন সংগ্রাম। দিনের পর দিন ফুটবল ক্লাবের বাইরে কিংবা রাস্তায় ঘুমিয়েছেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য গাড়ি পরিষ্কার করেছেন, কারখানায় কাজ করেছেন, আবার কখনও ভারী মালপত্র টানার কাজও করেছেন। কিন্তু কোনো বাধাই তাঁর স্বপ্নকে থামাতে পারেনি।

শৈশবে পাহাড়ি এলাকায় বড় বড় পাথর ছোড়ার অভ্যাস থেকেই তাঁর হাতের শক্তি গড়ে ওঠে। সেই অসাধারণ থ্রো এবং শারীরিক সক্ষমতাই পরবর্তীতে তাঁকে বিশ্বের অন্যতম ব্যতিক্রমী গোলরক্ষকে পরিণত করেছে। দীর্ঘ দূরত্বে বল ছুড়ে আক্রমণ শুরু করার ক্ষমতার জন্যও তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে পরিচিত।

বহু বছরের পরিশ্রমের পর ইরানের শীর্ষ লিগে নিজের জায়গা করে নেন বেইরানভান্দ। এরপর জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে ধীরে ধীরে দেশের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হন।

বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স শুধু একটি ড্র এনে দেয়নি, ইরানের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনাকেও আরও উজ্জ্বল করেছে। সামনে মিশরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আবারও বেইরানভান্দের ওপরই বড় ভরসা থাকবে ইরানের।

রাস্তায় ঘুমানো এক কিশোর থেকে বিশ্বকাপের নায়ক—আলিরেজা বেইরানভান্দের গল্প প্রমাণ করে, কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো স্বপ্নই অসম্ভব নয়।

আরও খবর