Sarfaraz Khan
দীর্ঘ ১৯ মাস পর আবার ভারতীয় টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আসন্ন দুই টেস্টের সিরিজে জায়গা পেলেন মুম্বইয়ের এই ব্যাটার। চোটের কারণে সাই সুদর্শন ছিটকে যাওয়ায় তাঁর জায়গায় সরফরাজকে নেওয়া হয়েছে।
আগামী ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়ার কথা ভারত-শ্রীলঙ্কা টেস্ট সিরিজ।সিরিজের প্রথম ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই দল গঠনের আলোচনা শুরু হয়েছে।সেই আবহেই সরফরাজের প্রত্যাবর্তন ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।
বি. সাই সুদর্শন ডান পায়ের বুড়ো আঙুলের স্ট্রেস ইনজুরি থেকে এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেননি।তাই নির্বাচক কমিটি টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে সরফরাজকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
মঙ্গলবার কলম্বোয় ভারতীয় দলের সঙ্গে সরফরাজ যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতীয় টেস্ট দলে তিন নম্বর জায়গাটি নিয়ে শুরু হয়েছিল আলোচনা। সাই সুদর্শন সেই জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার প্রস্তুতিতে ছিলেন। কিন্তু চোট তাঁর পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াল।ডান পায়ের বুড়ো আঙুলের চোট এখনও পুরোপুরি সারেনি সুদর্শনের। ফলে শ্রীলঙ্কা সফরে তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচকদের সামনে কয়েকটি নাম ছিল। শেখ রশীদ এবং রুতুরাজ গায়কোয়াড়ও আলোচনায় ছিলেন। দুজনের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও নির্বাচকদের নজরে ছিল।
শেখ রশীদের বড় সুবিধা তাঁর টপ অর্ডারে ব্যাট করার দক্ষতা। ঘরোয়া ক্রিকেটেও তিনি ধারাবাহিক ভাবে রান করেছেন। অন্য দিকে, রুতুরাজের অভিজ্ঞতা তাঁকে দৌড়ে এগিয়ে রেখেছিল।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রুতুরাজের রেকর্ডও যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য।শ্রীলঙ্কায় ভারত ‘এ’ দলের সফরেও দুজনেই ভালো পারফর্ম করেছিলেন।
তবু শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা এবং টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচিতির কারণে সরফরাজকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরফরাজের প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে তাঁর কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ২০২৪ সালে টেস্ট অভিষেকের পর শুরুটা বেশ আশাব্যঞ্জক ছিল তাঁর। জাতীয় দলের হয়ে এখনও পর্যন্ত ছয়টি টেস্ট খেলেছেন মুম্বইয়ের ব্যাটার। তাঁর সব কটি টেস্টই হয়েছিল ২০২৪ সালে।
এর পর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন তিনি। এমনকি ২০২৪-২৫ বর্ডার-গাভাসকর ট্রফিতেও তাঁকে একটিও ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে মনে হচ্ছিল, টেস্ট দলে সরফরাজের জায়গা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে জাতীয় দলের বাইরে থেকেও ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি রান করে গিয়েছেন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নির্বাচকদের নজরে ছিল। তাই দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতির পরও তাঁর নাম নির্বাচকদের ভাবনায় ছিল। এ বার সুদর্শনের চোট সেই সুযোগ আরও এক বার সামনে এনে দিল।
সাই সুদর্শনের অনুপস্থিতিতে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা খালি হয়েছে। বিশেষ করে তিন নম্বর পজিশন নিয়ে এখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে।
সেই জায়গায় সরফরাজকে ব্যবহার করা হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। যদি সুযোগ পান, তবে নিজের টেস্ট কেরিয়ার নতুন করে সাজানোর সামনে থাকবেন তিনি।
সরফরাজের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা। দীর্ঘ সময় ধরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি রান করে নজর কেড়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন সব সময়ই কঠিন। দীর্ঘ বিরতির পর সরফরাজকে দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।
শ্রীলঙ্কার মাটিতে স্পিনারদের বিরুদ্ধে তাঁর দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁর অভিজ্ঞতাকে কী ভাবে কাজে লাগায়, সেটিও দেখার। এই প্রত্যাবর্তন সরফরাজের কাছে শুধু একটি সিরিজ নয়। এটি তাঁর থমকে যাওয়া টেস্ট কেরিয়ার ফের এগিয়ে নেওয়ার বড় সুযোগ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর জাতীয় দলের দরজা আবার খুলেছে।
এ বার সেই সুযোগকে পারফরম্যান্সে পরিণত করাই হবে মুম্বইয়ের ব্যাটারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।