Aliens Not Visiting Earth
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মহাবিশ্বে মানুষ কি একাই বুদ্ধিমান প্রাণ? নাকি পৃথিবীর বাইরে কোথাও উন্নত সভ্যতার অস্তিত্ব রয়েছে? এই প্রশ্ন বহু দশক ধরে বিজ্ঞানী থেকে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস (UNSW)-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভিনগ্রহের প্রাণ বা উন্নত সভ্যতার অস্তিত্ব থাকা সম্ভব হলেও (Aliens Not Visiting Earth) তারা পৃথিবীতে আসছে না বা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না—এর পিছনে রয়েছে অন্তত তিনটি বড় বৈজ্ঞানিক কারণ।
প্রথম কারণটি হলো মহাবিশ্বের বিশালতা। পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রমণ্ডল আলফা সেন্টোরিও আমাদের থেকে প্রায় ৪.৩৭ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। বর্তমান প্রযুক্তি দিয়ে এই দূরত্ব অতিক্রম করতে হাজার হাজার বছর লেগে যেতে পারে। যদি কোনও ভিনগ্রহের সভ্যতা শত বা হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করে, তাহলে তাদের পক্ষে পৃথিবীতে পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বিজ্ঞানীদের মতে, আন্তঃনাক্ষত্রিক ভ্রমণের জন্য যে বিপুল শক্তি ও প্রযুক্তির প্রয়োজন, তা হয়তো অধিকাংশ সভ্যতার নাগালের বাইরে।
দ্বিতীয় কারণ হলো সময়ের ব্যবধান। পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি থেকে প্রযুক্তিনির্ভর মানব সভ্যতা গড়ে উঠতে কয়েকশো কোটি বছর সময় লেগেছে। অন্য কোনও গ্রহে যদি বুদ্ধিমান প্রাণের উদ্ভব হয়ে থাকে, তাহলে তারা হয়তো মানুষের জন্মের বহু আগে বিলুপ্ত হয়ে গেছে অথবা এখনও সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে দুটি উন্নত সভ্যতার একই সময়ে অস্তিত্ব থাকা এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
তৃতীয় কারণটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মহাবিশ্বে সাধারণ জীবনের অস্তিত্ব তুলনামূলকভাবে সাধারণ হতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত ও মহাকাশ ভ্রমণে সক্ষম বুদ্ধিমান সভ্যতা তৈরি হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। হাজার হাজার বহির্গ্রহ আবিষ্কৃত হলেও এখনও পর্যন্ত পৃথিবীর মতো উন্নত সভ্যতার কোনও প্রমাণ মেলেনি।
এই তত্ত্বগুলির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিখ্যাত ‘ফার্মি প্যারাডক্স’। পদার্থবিদ এনরিকো ফার্মি প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদি মহাবিশ্বে এত সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহ থাকে, তাহলে অন্য সভ্যতার কোনও চিহ্ন আমরা কেন দেখতে পাচ্ছি না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কেউ মনে করেন উন্নত সভ্যতা খুবই বিরল। আবার কেউ মনে করেন, প্রযুক্তিগত উন্নতির পর অনেক সভ্যতাই নিজেদের ধ্বংস করে ফেলে।
তবে গবেষকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, ভিনগ্রহের প্রাণের কোনও প্রমাণ না পাওয়া মানে এই নয় যে তারা নেই। বরং মহাবিশ্বের বিশাল দূরত্ব, সময়ের সীমাবদ্ধতা এবং প্রযুক্তিগত বাধাই যোগাযোগকে কঠিন করে তুলেছে।
বর্তমানে বিজ্ঞানীরা বহির্গ্রহ, বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক উপাদান এবং সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত সংকেত খুঁজে চলেছেন। ভবিষ্যতে কোনও দিন পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলতে পারে বলেই আশা করছেন তাঁরা। কিন্তু আপাতত মহাবিশ্ব এখনও নীরব, আর মানুষের অন্যতম বড় প্রশ্ন—‘আমরা কি একা?’—তার উত্তর অধরাই রয়ে গেছে।