IPL 2026 Legacy Teams
অরিন্দম নাথ : একসময় IPL মানেই ছিল তিন মহাশক্তির দাপট—কলকাতা নাইট রাইডার্স, চেন্নাই সুপার কিংস ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ট্রফি, তারকা ক্রিকেটার, বিশাল ফ্যানবেস—সব মিলিয়ে এই তিন দলই ছিল IPL-এর “legacy teams”। কিন্তু IPL ২০২৬ মরশুমে সেই পুরনো জৌলুস (IPL 2026 Legacy Teams) যেন কোথাও হারিয়ে গিয়েছে। KKR, CSK ও MI—তিন দলই এবার প্লে-অফের লড়াই থেকে কার্যত ছিটকে পড়েছে। ক্রিকেট মহলে এখন বড় প্রশ্ন—ঠিক কোথায় ভুল হচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী দলগুলির?
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে Chennai Super Kings। Mahendra Singh Dhoni-র যুগ শেষ হওয়ার পর থেকেই দল যেন স্পষ্ট দিশাহীনতায় ভুগছে। গত কয়েক বছরে CSK অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এবারও ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিকতার অভাব চোখে পড়েছে। বিশেষ করে powerplay-তে উইকেট হারানো এবং death bowling-এর দুর্বলতা দলকে বারবার চাপে ফেলেছে।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন দলটি গত কয়েক মরশুম ধরেই transition phase-এর মধ্যে রয়েছে। Rohit Sharma-র নেতৃত্বের যুগ শেষ হওয়ার পর নতুন core group গড়ে তুলতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে MI। বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে bowling combination। Jasprit Bumrah একা ম্যাচ জেতানোর চেষ্টা করলেও অন্য বোলারদের ধারাবাহিকতা নেই। পাশাপাশি middle order-এও stability দেখা যায়নি।
অন্যদিকে Kolkata Knight Riders-এর ব্যর্থতা আরও হতাশাজনক। কারণ গত কয়েক মরশুমে KKR squad balance নিয়ে অনেক প্রশংসা পেয়েছিল। কিন্তু IPL ২০২৬-এ তাদের ব্যাটিং লাইনআপ বারবার ভেঙে পড়েছে। Andre Russell ও Sunil Narine-এর উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দলকে সমস্যায় ফেলেছে। তরুণ ভারতীয় ব্যাটাররা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। পাশাপাশি bowling unit-এও ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, IPL এখন পুরোপুরি বদলে (IPL 2026 Legacy Teams) গিয়েছে। আগে বড় তারকা ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপর নির্ভর করে সাফল্য পাওয়া যেত। কিন্তু এখন data analytics, fearless youngsters, match-up strategy এবং aggressive batting—এই চারটি বিষয় IPL-এর নতুন বাস্তবতা। Gujarat Titans, Rajasthan Royals বা Lucknow Super Giants-এর মতো নতুন দলগুলি এই আধুনিক ক্রিকেট দর্শনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিয়েছে। সেখানে পুরনো দলগুলি অনেক ক্ষেত্রে অতীতের সফল ফর্মুলাতেই আটকে রয়েছে।
বিশেষ করে auction strategy নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। CSK, MI ও KKR—তিন দলই একাধিকবার আবেগের বশে পুরনো ক্রিকেটারদের ধরে রাখার চেষ্টা করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। অথচ নতুন যুগের aggressive young cricketer-দের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে Rajasthan Royals বা Sunrisers Hyderabad অনেক বেশি সফল হয়েছে। বৈভব সূর্যবংশী, অভিষেক শর্মা বা রিয়ান পরাগদের মতো ক্রিকেটাররা এখন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছেন।
আরও একটি বড় কারণ হল injury management ও workload issue। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচির কারণে একাধিক বড় তারকা IPL-এ পুরোপুরি ফিট অবস্থায় খেলতে পারছেন না। MI ও CSK এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভুগেছে। অন্যদিকে নতুন দলগুলির squad depth তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, “legacy advantage” এখন আর IPL-এ সাফল্যের গ্যারান্টি নয়। ফ্যানবেস, ইতিহাস বা পুরনো ট্রফি—এসবের চেয়ে এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ smart scouting, fearless cricket এবং tactical flexibility। সেই কারণেই IPL ২০২৬-এ নতুন প্রজন্মের দলগুলির উত্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে KKR, CSK বা MI শেষ হয়ে গিয়েছে। বরং অনেকেই মনে করছেন, এই ব্যর্থতাই হয়তো তাদের নতুনভাবে দল গঠনের সুযোগ করে দেবে। বিশেষ করে mega auction-এর আগে বড় পরিবর্তন আসতে পারে এই তিন দলে।
সব মিলিয়ে, IPL ২০২৬ যেন স্পষ্ট করে দিল—টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অতীতের সাফল্য নয়, বর্তমানের উদ্ভাবন ও অভিযোজন ক্ষমতাই আসল শক্তি। আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ KKR, CSK ও MI-র সামনে।