World Cup Brothers Goals
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: আর মাত্র এক দিন পরেই শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। সেই উপলক্ষে বিশ্বকাপের নানা বিরল পরিসংখ্যান ও অজানা গল্প নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে ক্লাউড টিভি। আজকের পর্বে থাকছে বিশ্বকাপে গোল করা ভাইদের (World Cup Brothers Goals) অনন্য কীর্তির গল্প।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অসংখ্য কিংবদন্তি ফুটবলার নিজেদের ছাপ রেখে গেছেন। তবে একই পরিবারের দুই ভাই বিশ্বমঞ্চে গোল করেছেন— এমন ঘটনা ঘটেছে মাত্র চারবার। সেই তালিকায় রয়েছে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ব্রাজিল ও ডেনমার্কের চার জোড়া ভাই।
প্রথম এই নজির গড়েন পশ্চিম জার্মানির দুই ভাই ফ্রিটজ ওয়াল্টার ও অটমার ওয়াল্টার। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের পথে দুই ভাই মিলে করেছিলেন সাতটি গোল। সেই আসরের ‘মিরাকল অব বার্ন’-এর অন্যতম নায়ক ছিলেন তাঁরা।
দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে দুই ভাইয়ের (World Cup Brothers Goals) গোল করার ঘটনা দেখা যায় নেদারল্যান্ডসের উইলি ও রেনে ফন ডে কেরখফের ক্ষেত্রে। ১৯৭৪ ও ১৯৭৮— টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা ডাচ দলের হয়ে দুই ভাই-ই গোল করেছিলেন। যদিও দুইবারই শিরোপার খুব কাছে গিয়েও রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল নেদারল্যান্ডসকে।
তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ গল্প সম্ভবত ব্রাজিলের দুই কিংবদন্তি ভাই সক্রেটিস ও রাইকে ঘিরে। তাদের বিশ্বকাপ গোলের মধ্যে রয়েছে অবিশ্বাস্য মিল।
সক্রেটিস ১৯৮২ বিশ্বকাপে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে নিজের বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচে গোল করেছিলেন। সেটি ছিল দ্বিতীয়ার্ধে নেওয়া একটি পেনাল্টি, আর তিনি ছিলেন ব্রাজিল দলের অধিনায়ক।
বারো বছর পরে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ঠিক একই রকম ঘটনা ঘটান তাঁর ছোট ভাই রাই। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিজের বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করেন তিনিও। সেদিন তিনিও ছিলেন ব্রাজিলের অধিনায়ক। দুই ভাইয়ের এই আশ্চর্য মিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশ্বকাপে গোল করা শেষ দুই ভাই হলেন ডেনমার্কের মাইকেল ও ব্রায়ান লাউড্রাপ। মাইকেল লাউড্রাপ ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে একটি করে গোল করেছিলেন। অন্যদিকে ব্রায়ান লাউড্রাপ ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দুটি গোল করে ডেনমার্ককে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে হাজারো গোলের মধ্যে এই চার জোড়া ভাইয়ের গল্প আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। কারণ তারা শুধু গোলই করেননি, একই পরিবারের সদস্য হিসেবে ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে নিজেদের নামও লিখিয়েছেন সোনালি অক্ষরে।