• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
World Cup Productivity Loss

বিশ্বকাপে কর্মীদের মন মাঠে, ক্ষতির মুখে সংস্থাগুলি! ১৭ বিলিয়ন ডলার লোকসানের আশঙ্কা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন কর্মীদের অনুপস্থিতি ও উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে সংস্থাগুলির প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা। এমনই দাবি আন্তর্জাতিক সমীক্ষার।

বিশ্বকাপে কর্মীদের মন মাঠে, ক্ষতির মুখে সংস্থাগুলি! ১৭ বিলিয়ন ডলার লোকসানের আশঙ্কা

World Cup Productivity Loss

Published by: cloud_admin
  • Posted:June 8, 2026 6:36 am
  • Update:June 8, 2026 6:36 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই উন্মাদনা। কোটি কোটি সমর্থকের মতো অফিসের কর্মীরাও তখন ডুবে থাকেন ফুটবলের জ্বরে। কিন্তু এই আবেগই এবার মাথাব্যথার কারণ হতে পারে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থার (World Cup Productivity Loss) জন্য।

একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা বলছে, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে নিয়োগকর্তাদের প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।

মানবসম্পদ, বেতন এবং কর্মী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রযুক্তি সংস্থা UKG-র প্রকাশিত সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই তথ্য। সংস্থাটি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮ হাজার কর্মীর উপর সমীক্ষা চালিয়ে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে।

অফিসের বদলে বিশ্বকাপ

সমীক্ষা (World Cup Productivity Loss) অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালীন ৩৭ শতাংশ কর্মী নিজেদের কাজের সময়সূচি বদলানোর পরিকল্পনা করছেন, যাতে তারা ম্যাচ দেখতে পারেন।

এছাড়া ২৭ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, তাঁরা দেরিতে অফিসে আসতে পারেন, আগেভাগে বেরিয়ে যেতে পারেন অথবা কোনও দিন অফিসেই না-ও যেতে পারেন।

আরও উদ্বেগজনক তথ্য হল, ১৪ শতাংশ কর্মী স্বীকার করেছেন যে তাঁরা কর্মঘণ্টার মধ্যেই গোপনে ম্যাচ বা হাইলাইটস দেখবেন। অন্যদিকে ১১ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, ম্যাচ-পরবর্তী উদ্‌যাপনের কারণে তাঁরা নেশাগ্রস্ত অবস্থাতেও কাজে যোগ দিতে পারেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রে

১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলা এই বিশ্বকাপে এবার অংশ নেবে ৪৮টি দেশ। আয়োজক হিসেবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। টুর্নামেন্টে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

UKG-র হিসাব অনুযায়ী, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার কারণে প্রায় ১১.৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে। এর পরেই রয়েছে জার্মানি, যেখানে সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ ১.৩৪ বিলিয়ন ডলার

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মীরা ম্যাচ দেখার জন্য সময় বের করতে গিয়ে অফিসের কাজের উপর মনোযোগ কমিয়ে দিতে পারেন। তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে সংস্থার আয়, পরিষেবা এবং গ্রাহক সন্তুষ্টির উপর।

ম্যানেজাররাও ব্যতিক্রম নন

শুধু কর্মীরাই নন, ম্যানেজাররাও বিশ্বকাপ উন্মাদনার বাইরে নন।

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৪২ শতাংশ ম্যানেজার টুর্নামেন্ট চলাকালীন অন্তত একদিন ছুটি নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া ৪৫ শতাংশ ম্যানেজার শেষ মুহূর্তে নমনীয় কাজের সময় বা ছুটির সুবিধা চাইতে পারেন বলে জানিয়েছেন।

কী বলছে UKG?

UKG-র চিফ প্রোডাক্ট অফিসার সুরেশ ভিত্তাল বলেন, “যখন কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক অনুপস্থিতি বা উপস্থিত থেকেও কাজ না করার প্রবণতা দেখা দেয়, তখন তার প্রভাব তাৎক্ষণিক এবং ব্যয়বহুল হয়। উৎপাদনশীলতা কমে যায়, গ্রাহক পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্য কর্মীদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।”

তবে অনেক সংস্থা ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে। কিছু প্রতিষ্ঠান নমনীয় কর্মঘণ্টা, অফিসে ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা এবং ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর মতো সুবিধা দেওয়ার কথাও ভাবছে।

ফুটবলের জয়, নাকি অফিসের হার?

বিশ্বকাপ নিঃসন্দেহে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর। কিন্তু সেই উন্মাদনা এবার কর্মক্ষেত্রের উৎপাদনশীলতার উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চিন্তিত কর্পোরেট বিশ্ব।

এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের এক মাসে ফুটবল জেতে বেশি, নাকি অফিসের কাজ হারায় বেশি!

আরও খবর