• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Iran-US Peace Deal

ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তির জেরে চাঙ্গা শেয়ারবাজার, কয়েক ঘণ্টায় বিনিয়োগকারীদের সম্পদ বৃদ্ধি ৮.২৫ লক্ষ কোটি টাকা

ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতেই চাঙ্গা হয়ে উঠল ভারতীয় শেয়ারবাজার। সেনসেক্স ও নিফটির জোরালো উত্থানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের সম্পদ বৃদ্ধি পেল প্রায় ৮.২৫ লক্ষ কোটি টাকা।

ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তির জেরে চাঙ্গা শেয়ারবাজার, কয়েক ঘণ্টায় বিনিয়োগকারীদের সম্পদ বৃদ্ধি ৮.২৫ লক্ষ কোটি টাকা

Iran-US Peace Deal

Published by: cloud_admin
  • Posted:June 15, 2026 11:44 am
  • Update:June 15, 2026 11:44 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তিচুক্তির ঘোষণার পর বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতীয় শেয়ারবাজারেও। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেল বাজারে (Iran-US Peace Deal)। তেলের দাম কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে, যার ফলে বাজার খোলার পর থেকেই সেনসেক্স ও নিফটি ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে।

সোমবার বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স ১,১০৩.১৮ পয়েন্ট বেড়ে ৭৬,৬৩১.১৩ পয়েন্টে পৌঁছয়। একই সময়ে নিফটি ৩২৯.৬৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ২৩,৯৫২.০৫ পয়েন্টে। শতাংশের হিসেবে সূচকের বৃদ্ধি প্রায় ১.৪ শতাংশ। বাজারের এই উত্থানের ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজারমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৮.২৫ লক্ষ কোটি টাকা।

শান্তিচুক্তির ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আবারও জ্বালানি পরিবহণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই জলপথে মার্কিন অবরোধও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তেল ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.১ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮৩ ডলারে নেমে এসেছে, যা মার্চ মাসের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ৪.৭২ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮০.৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের অর্থনীতির জন্য এই মূল্যপতন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তেলের দাম কমলে আমদানি ব্যয় কমে, মুদ্রাস্ফীতির চাপ হ্রাস পায় এবং চলতি হিসাবের ঘাটতিও নিয়ন্ত্রণে থাকে। একই সঙ্গে ডলারের তুলনায় টাকার মূল্যও শক্তিশালী হয়েছে। এদিন প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য ৬০ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে ৯৪.৫৮ টাকায় পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আরও স্বস্তি দিয়েছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে আগামী দিনেও বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত শুক্রবারও সম্ভাব্য সমঝোতার জল্পনায় বাজারে বড় উত্থান দেখা গিয়েছিল। সেদিন সেনসেক্স ১,৬৯৫.৪০ পয়েন্ট এবং নিফটি ৪৬১.৩০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছিল।

খাতভিত্তিক সূচকের দিকে নজর দিলে দেখা যাচ্ছে, ফার্মা ও স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্র ছাড়া প্রায় সব ক্ষেত্রেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। অটো ও রিয়েলটি খাতের সূচক ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। নিফটির মধ্যে শ্রেষ্ঠ পারফরমারদের তালিকায় রয়েছে Shriram Finance, InterGlobe Aviation, Bajaj Finserv, Trent এবং Eternal। অন্যদিকে Apollo Hospitals, Cipla, NTPC, ONGC এবং Hindalco Industries-এর শেয়ারে কিছুটা চাপ দেখা গিয়েছে।

আরও খবর