• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Keylor Navas Costa Rica

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ: বিশ্বকাপের বাকি ২০ দিন, ব্রাজিলে নাভাসের ‘চীনের প্রাচীর’ হয়ে ওঠার গল্প

২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে কেইলর নাভাস যেন হয়ে উঠেছিলেন ‘চীনের প্রাচীর’। তাঁর দুর্দান্ত গোলরক্ষণের উপর ভর করেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের সেরা সাফল্য পায় কোস্টা রিকা।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ: বিশ্বকাপের বাকি ২০ দিন, ব্রাজিলে নাভাসের ‘চীনের প্রাচীর’ হয়ে ওঠার গল্প

Keylor Navas Costa Rica

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 23, 2026 3:17 pm
  • Update:May 23, 2026 3:17 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: আর মাত্র ২০ দিনের অপেক্ষা। এরপরই পর্দা উঠবে ফুটবল বিশ্বকাপের মহারণের। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ক্লাউড টিভির বিশেষ পরিসংখ্যানভিত্তিক ধারাবাহিকে প্রতিদিন তুলে ধরা হচ্ছে একটি করে বিশেষ গল্প। আজকের পর্বে থাকছে এমন এক গোলরক্ষকের কথা, যিনি এক বিশ্বকাপে নিজের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে পুরো ফুটবল বিশ্বকে বিস্মিত করেছিলেন। তিনি কোস্টা রিকার কিংবদন্তি গোলরক্ষক কেইলর নাভাস (Keylor Navas Costa Rica)।

২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের আগে কোস্টা রিকাকে নিয়ে খুব বেশি আশা ছিল না ফুটবলবিশ্বে। বরং ড্র অনুষ্ঠানের পর অনেকেই তাদের ভাগ্যকে ‘মৃত্যুকূপে’ পড়া বলে মনে করেছিলেন। কারণ ‘ডি’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল তিন সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন— উরুগুয়ে, ইতালি এবং ইংল্যান্ড। কাগজে-কলমে অনেকেই মনে করেছিলেন কোস্টা রিকা হয়তো গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেবে। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার পর গল্পটা একেবারে অন্যরকম হয়ে যায়।

এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান নায়ক ছিলেন কেইলর নাভাস (Keylor Navas Costa Rica)। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি এমন এক পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন, যা আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় গোলকিপিং প্রদর্শনী হিসেবে বিবেচিত হয়। পুরো আসরে নাভাস মোট ৯১টি সেভ করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়, আর তাঁর দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক উপস্থিতির উপর ভর করেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের অন্যতম সেরা সাফল্য পায় কোস্টা রিকা।

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামে কোস্টা রিকা। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও পরে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা। এরপর আরও বড় চমক অপেক্ষা করছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় কোস্টা রিকা। শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে দলটি।

শেষ ষোলোতেও নাভাসের জাদু অব্যাহত থাকে। গ্রিসের বিপক্ষে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে নির্ধারিত সময় এবং অতিরিক্ত সময় শেষে স্কোরলাইন ছিল সমতায়। এরপর টাইব্রেকারে প্রতিপক্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ শট রুখে দেন নাভাস। তাঁর অসাধারণ গোলরক্ষণের ফলে কোস্টা রিকা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায়।

তবে শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা আর পেরোতে পারেনি তারা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে বিদায় নিতে হয় কোস্টা রিকাকে। কিন্তু হারলেও নাভাসের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দু।

পুরো টুর্নামেন্টে ৫১০ মিনিট গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে মাত্র দুটি গোল হজম করেছিলেন নাভাস। আরও অবাক করা বিষয় হল, তাঁর বিপক্ষে মাঠে ছিলেন বিশ্বের সেরা কিছু ফরোয়ার্ড— এদিনসন কাভানি, দিয়েগো ফোরলান, মারিও বালোতেল্লি, ওয়েইন রুনি, আরিয়েন রবেন এবং রবিন ফন পার্সির মতো তারকারা। এতসব আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সামনে দাঁড়িয়ে নাভাস যে দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন, তা তাঁকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় গোলরক্ষকের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।

২০১৪ সালের সেই বিশ্বকাপ শুধু কোস্টা রিকার জন্য নয়, কেইলর নাভাসের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্যও একটি মোড় ঘোরানো মুহূর্ত ছিল। কারণ সেই আসরের পরই তাঁর দিকে নজর যায় ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর এবং পরবর্তীতে তিনি যোগ দেন স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদে।

আরও খবর