Yashasvi Jaiswal NADA notice
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন বিতর্ক। নির্ধারিত ডোপ টেস্টে উপস্থিত না থাকায় জাতীয় ডোপ-বিরোধী সংস্থা NADA (National Anti-Doping Agency) নোটিশ পাঠিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটার Yashasvi Jaiswal এবং Shafali Verma-কে।
সূত্রের খবর, গত বছর নির্ধারিত ডোপ পরীক্ষায় হাজির না হওয়ায় প্রথমবারের মতো “whereabouts failure” বা অবস্থান জানাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ (Yashasvi Jaiswal NADA notice) উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। দুই ক্রিকেটারই NADA-র Registered Testing Pool (RTP)-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী, তাঁরা কেন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন, তার কোনও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা না দেওয়াতেই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং নিয়ম অনুযায়ী, RTP-তে থাকা খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট সময় ও স্থানের তথ্য আগেভাগে জমা দিতে হয় যাতে হঠাৎ ডোপ টেস্ট করা সম্ভব হয়। কোনও খেলোয়াড় যদি নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকেন বা ভুল তথ্য দেন, তা “whereabouts failure” হিসেবে ধরা হয়। তবে প্রথমবার এই ধরনের ব্যর্থতা সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ডেকে আনে না। সাধারণত ১২ মাসের মধ্যে তিনটি “whereabouts failure” হলে তা অ্যান্টি-ডোপিং নিয়মভঙ্গ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
এক নির্ভরযোগ্য সূত্র PTI-কে জানিয়েছে,
“সংশ্লিষ্ট ক্রীড়াবিদদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং জাতীয় ফেডারেশন BCCI ও ICC-কেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।”
যদিও NADA গোপনীয়তার নীতি দেখিয়ে সরকারি ভাবে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
অন্যদিকে BCCI-র একটি সূত্রও এই ঘটনার (Yashasvi Jaiswal NADA notice) সত্যতা নিশ্চিত করেছে বলে জানা গিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেটে ডোপিং বিতর্ক খুব বেশি দেখা না গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অ্যান্টি-ডোপিং নজরদারি অনেক কঠোর হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে RTP-এর নিয়ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়। কারণ এই তালিকায় থাকা খেলোয়াড়দের যে কোনও সময় হঠাৎ পরীক্ষা করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “whereabouts failure” সরাসরি ডোপিং প্রমাণ না করলেও এটি অ্যান্টি-ডোপিং প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ খেলোয়াড়দের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সঠিক রাখা বাধ্যতামূলক।
Registered Testing Pool-এ সাধারণত আন্তর্জাতিক স্তরের বা সম্ভাবনাময় শীর্ষ ক্রীড়াবিদদের রাখা হয়। এই তালিকায় থাকা অ্যাথলিটদের নিয়মিত নিজেদের অবস্থান, ভ্রমণ সূচি এবং অনুশীলনের তথ্য আপডেট করতে হয় যাতে NADA বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি প্রয়োজন হলে হঠাৎ পরীক্ষা করতে পারে। যশস্বী জয়সওয়াল বর্তমানে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তরুণ ব্যাটার হিসেবে উঠে এসেছেন। অন্যদিকে শেফালি বর্মা দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় মহিলা দলের আক্রমণাত্মক ওপেনার হিসেবে পরিচিত।
বর্তমানে এটি শুধুমাত্র প্রথম “whereabouts failure” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে অবিলম্বে কোনও নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা নেই। তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে তা গুরুতর অ্যান্টি-ডোপিং নিয়মভঙ্গ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এখন দুই ক্রিকেটারের ব্যাখ্যা এবং NADA-র পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকবে ক্রিকেটমহলের।