MS Dhoni highest taxpayer
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: ক্রিকেট মাঠে বহু রেকর্ড গড়ার পর এবার নতুন এক নজির তৈরি করলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক Mahendra Singh Dhoni। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ঝাড়খণ্ড ও বিহার অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত করদাতা (MS Dhoni highest taxpayer) হিসেবে উঠে এল তাঁর নাম।
আয়কর বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ড এবং বিহার মিলিয়ে চলতি অর্থবর্ষে মোট আয়কর সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যেই ব্যক্তিগত করদাতাদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।
এই তথ্য প্রকাশ করেছেন আয়কর বিভাগের প্রধান মুখ্য কমিশনার ডি. সুধাকর রাও।
আয়কর বিভাগের প্রধান মুখ্য কমিশনার ডি. সুধাকর রাও জানিয়েছেন,
“২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বিহার ও ঝাড়খণ্ড মিলিয়ে ধোনিই ছিলেন শীর্ষ ব্যক্তিগত করদাতা।” তিনি আরও জানান, দুই রাজ্য থেকে মোট আয়কর সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধুমাত্র ঝাড়খণ্ড থেকেই এসেছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।
তবে ধোনি ঠিক কত টাকা কর দিয়েছেন, সেই নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
আয়কর বিভাগের দাবি, মোট কর সংগ্রহের প্রায় ৭০ শতাংশ এসেছে TDS বা Tax Deducted at Source-এর মাধ্যমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর কাঠামোয় TDS ব্যবস্থার বাড়তি গুরুত্ব এবং ডিজিটাল নজরদারি বাড়ার ফলেই কর আদায়ে এই বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও ধোনির জনপ্রিয়তা এবং বাণিজ্যিক মূল্য কমেনি।
IPL-এ Chennai Super Kings-এর নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। বিজ্ঞাপন, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ, কৃষি উদ্যোগ এবং স্পোর্টস ভেঞ্চারের মাধ্যমে এখনও বিপুল আয় করেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক।
বিশেষ করে ঝাড়খণ্ডে তাঁর জনপ্রিয়তা এখনও অসাধারণ। রাঁচির স্থানীয় ছেলে থেকে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সফল অধিনায়ক হয়ে ওঠার গল্প তাঁকে সেই অঞ্চলে কার্যত আইকনের মর্যাদা দিয়েছে।
ক্রীড়া ও কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় অঙ্কের নিয়মিত কর প্রদান একজন তারকা ক্রীড়াবিদের আর্থিক স্বচ্ছতা এবং পরিকল্পনারও ইঙ্গিত দেয়।
ধোনি বরাবরই ব্যক্তিগত জীবন ও আর্থিক বিষয়ে সংযত এবং পরিকল্পিত বলেই পরিচিত। সেই ভাবমূর্তির সঙ্গেই এই খবরকেও মিলিয়ে দেখছেন অনেকে।
ভারতে করদাতাদের সংখ্যা বাড়ানো এবং নিয়মিত কর প্রদানকে উৎসাহিত করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বরাবর জোর দিয়ে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদদের এই ধরনের তথ্য প্রকাশ্যে এলে তা সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক বার্তা দেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ছোট শহর থেকে উঠে আসা একজন ক্রিকেটারের দেশের অন্যতম বড় করদাতা হয়ে ওঠার ঘটনা নতুন প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণার।