Rahul Dravid Dublin Guardians
ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম কিংবদন্তি রাহুল দ্রাবিড় এবার সম্পূর্ণ নতুন ভূমিকায়—মালিক। ইউরোপিয়ান টি-২০ প্রিমিয়ার লিগের (ETPL) দল ডাবলিন গার্ডিয়ান্সের মালিকানায় যুক্ত হয়েছেন তিনি। কিন্তু দলের ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তে তিনি কতটা হস্তক্ষেপ করছেন? সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন দলের কোচ বিক্রম রাঠোর। তাঁর দাবি, দ্রাবিড় মালিকের ভূমিকাতেই রয়েছেন এবং ক্রিকেটীয় বিষয়ে অযথা হস্তক্ষেপ করছেন না। এমনকি প্রথম পাঁচ ম্যাচে দল জয়হীন থাকলেও তিনি যথেষ্ট সমর্থন জুগিয়েছেন।
ETPL-এর প্রথম পর্ব ডাবলিন গার্ডিয়ান্সের জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। প্রথম পাঁচ ম্যাচের একটিতেও জয় পায়নি দল। এমন পরিস্থিতিতেও মালিক দ্রাবিড়ের আচরণে কোনও অস্থিরতা দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন রাঠোর।
তাঁর মতে, দ্রাবিড়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল তিনি নিজে দীর্ঘদিন ক্রিকেটার এবং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। ফলে একটি দলের ফলাফল কখনও ভালো, কখনও খারাপ হতে পারে—এই বাস্তবতা তিনি খুব ভালোভাবেই বোঝেন।
রাঠোরের কথায়, দ্রাবিড় মালিক হিসেবে দলের পাশে থাকছেন, কিন্তু মাঠের ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তে নাক গলাচ্ছেন না। দল গঠন, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কৌশল কিংবা একাদশ নির্বাচনের মতো বিষয়গুলিতে তাঁর সরাসরি হস্তক্ষেপ নেই।
বরং মালিক হিসেবে প্রয়োজনীয় সমর্থন দেওয়াই তাঁর প্রধান ভূমিকা। রাঠোরের মতে, এমন একজন মালিক থাকা অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক, যিনি কোচিং এবং ক্রিকেট পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা বোঝেন।
ডাবলিন গার্ডিয়ান্সের ক্রিকেটীয় দায়িত্বের বড় অংশ দেওয়া হয়েছে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের হাতে। দলের অধিনায়ক ও মেন্টর হিসেবে তিনি প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ, দল নির্বাচন এবং মাঠের কৌশল নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
রাঠোর অশ্বিনের ক্রিকেটজ্ঞান নিয়েও উচ্ছ্বসিত। তাঁর মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রিকেটার এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে অশ্বিনের জ্ঞান অসাধারণ।
দ্রাবিড় মালিক হওয়ার সময়ই জানিয়েছিলেন যে তিনি দলের দৈনন্দিন ক্রিকেটীয় পরিচালনায় সরাসরি যুক্ত হতে চান না। তাঁর পরিকল্পনা ছিল একটি শক্তিশালী দল ও ব্যবস্থাপনা তৈরি করে ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা অশ্বিন এবং বিশেষজ্ঞদের হাতে তুলে দেওয়া।
সেই পরিকল্পনাই বাস্তবে দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাঠোর। অর্থাৎ ভারতের কোচ হিসেবে যে দ্রাবিড়কে সবসময় মাঠের খুব কাছাকাছি দেখা যেত, মালিক হিসেবে তিনি তার উল্টো পথ বেছে নিয়েছেন।
ETPL-এর লক্ষ্য শুধু একটি নতুন টি-২০ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা নয়। আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস-সহ ইউরোপে ক্রিকেটের পরিকাঠামো, জনপ্রিয়তা এবং নতুন প্রতিভার জন্য সুযোগ তৈরি করাও এই লিগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
দ্রাবিড়ও মালিক হওয়ার সময় জানিয়েছিলেন, ইউরোপে ক্রিকেটের বিকাশ এবং তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য নতুন পথ তৈরি করার সম্ভাবনাই তাঁকে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করেছে।