Kanpur Businessman Murder
কানপুরে ৬৩ বছরের ওষুধ ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচার খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, CCTV ক্যামেরার নজরদারি, রাতে পার্টিতে যাওয়া নিয়ে আপত্তি এবং পরিবারের আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ক্ষোভ থেকেই নাকি শ্বশুরকে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁর পুত্রবধূ শালু। অভিযোগ, প্রাক্তন এক গৃহকর্মীকে খুনের জন্য ৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তিনি। পুলিশ শালুকে হেফাজতে নিয়েছে।
শনিবার রাতে কানপুরের একটি অভিজাত আবাসনের ফ্ল্যাটে খুন হন ৬৩ বছরের বিনীত মিনোচা। তাঁর শরীরে ছুরির ২৬টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তে CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রাক্তন কর্মী বিশাল এবং তাঁর সহযোগী রাজকিশোরের দিকে সন্দেহ যায়। দু’জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। জেরায় বিশাল নাকি দাবি করেন, বিনীতের পুত্রবধূ শালুর নির্দেশেই এই খুন করা হয়েছিল। এরপর শালুকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ।
তদন্তকারীদের কাছে শালু অভিযোগ করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর শ্বশুর বাড়ির ভিতরের গতিবিধির উপর CCTV ক্যামেরার মাধ্যমে নজর রাখতেন। রাতে পার্টিতে যাওয়া বা দেরি করে বাড়ি ফেরাও তিনি পছন্দ করতেন না।
এছাড়াও পরিবারের আর্থিক বিষয়ে শ্বশুরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও তাঁর ক্ষোভ ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। শালুর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বচ্ছল পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিগত বা স্বামীর ছোটখাটো খরচের জন্যও তাঁকে শ্বশুরের কাছে টাকা চাইতে হত।
গত ২৮ জুলাই পার্টি থেকে দেরি করে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে শালুর সঙ্গে বিনীতের তীব্র বচসা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেই ঘটনার পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি আরও বেড়ে যায় বলে পুলিশের অনুমান।
পুলিশের দাবি, শালু পরে প্রাক্তন কর্মী বিশালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং শ্বশুরকে খুন করার জন্য তাঁকে ৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। অভিযোগ, ২ লক্ষ টাকা ৬ সেপ্টেম্বর এবং বাকি ৪ লক্ষ টাকা ১৫ দিন পরে দেওয়ার কথা ছিল।
তদন্ত অনুযায়ী, শালু ফ্ল্যাটের একটি ডুপ্লিকেট চাবি তৈরির ব্যবস্থা করেন। জন্মাষ্টমীর দিনও বিশালকে ডেকে পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি।
শনিবার রাতে শালু তাঁর স্বামী সুব্রত এবং সন্তানকে নিয়ে পার্টিতে চলে যান। তাঁদের বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বিশাল ও রাজকিশোর ফ্ল্যাটে পৌঁছন।
অভিযোগ, নিরাপত্তারক্ষী তাঁদের আটকে দিলে বিশাল ফোনে শালুর সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। শালু নাকি নিরাপত্তারক্ষীকে জানান, ওই দু’জন ওষুধ পৌঁছে দিতে এসেছেন। এরপর তাঁদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রথমে এমন পরিকল্পনা ছিল যাতে বিনীতকে বালিশ দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁর মৃত্যুকে স্বাভাবিক হৃদ্রোগে মৃত্যুর মতো দেখানো যায়। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায়।
পুলিশের অভিযোগ, বিশাল ও রাজকিশোর বাড়ির একটি ঘরে লুকিয়ে ছিলেন। বিনীত সেখানে ঢোকার পর তাঁকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করা হয়। এরপর দু’জন পালিয়ে যান।
রাত প্রায় ৩টে নাগাদ শালু ও তাঁর স্বামী পার্টি থেকে ফিরে এসে বিনীতকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে কোনও মূল্যবান সামগ্রী চুরি যাওয়ার প্রমাণ না মেলায় শুরু থেকেই পুলিশ এটিকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখেনি। বরং ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই খুনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়।
শালু বর্তমানে জেলে রয়েছেন। তবে এই ষড়যন্ত্রে তাঁর স্বামী সুব্রতের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাঁর কল রেকর্ড পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্ত এখনও চলছে। ফলে শালুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর কথিত স্বীকারোক্তির পাশাপাশি পুলিশ CCTV ফুটেজ, কল রেকর্ড, ফরেন্সিক প্রমাণ এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য মিলিয়ে দেখছে।