Bangaon Hospital Aadhaar Card Row
আধার কার্ড সঙ্গে না থাকায় অসুস্থ বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হয়নি—এমনই অভিযোগ পরিবারের। বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালের গেটের বাইরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু (Bangaon Hospital Aadhaar Card Row) হল ৫৪ বছরের রেনু মণ্ডলের। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, জরুরি বিভাগে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়েছিল এবং আধার কার্ড পরে আনতে বলা হয়েছিল।
বনগাঁয় মর্মান্তিক ঘটনা। বুকে ব্যথা নিয়ে চিকিৎসার জন্য বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে এসেছিলেন রেনু মণ্ডল। জরুরি বিভাগে চিকিৎসার পর তাঁকে ভর্তি করার জন্য ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছিল বলে হাসপাতালের দাবি। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, উপরের ওয়ার্ডে যাওয়ার পর আধার কার্ড চাওয়া হয়। সঙ্গে আধার কার্ড না থাকায় তাঁকে ভর্তি নেওয়া হয়নি।
এরপর আধার কার্ড আনতে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান রেনু ও তাঁর দিদি সরস্বতী সরকার। কিন্তু শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে হাসপাতালের গেটের কাছেই বসে পড়েন বৃদ্ধা। কিছুক্ষণের মধ্যেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে ফের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃতার নাম রেনু মণ্ডল। তাঁর কোনও ছেলে বা মেয়ে নেই। পেট্রাপোল থানার কালিয়ানী খেদাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। বুকে ব্যথা হওয়ায় বনগাঁ থানার কালপুরের বাসিন্দা তাঁর দিদি সরস্বতী সরকারের সঙ্গে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন।
সরস্বতীর দাবি, জরুরি বিভাগে রেনুকে দেখার পর চিকিৎসকরা তাঁকে ভর্তি করার কথা বলেন। এরপর উপরের ওয়ার্ডে গেলে আধার কার্ড চাওয়া হয়। অভিযোগ, নথি সঙ্গে না থাকায় ওয়ার্ডে ভর্তি নেওয়া হয়নি।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, এরপর আধার কার্ড আনতে হাসপাতাল থেকে বেরোতেই হয় তাঁদের। কিন্তু গেটের বাইরে পৌঁছনোর পরই রেনুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।
হাসপাতালের বাইরে বসে পড়ার পর অচৈতন্য হয়ে যান রেনু। তাঁকে ফের হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—গুরুতর অসুস্থ একজন রোগীকে যদি ভর্তি হওয়ার জন্য ওয়ার্ডে পাঠানো হয়ে থাকে, তাহলে তিনি কীভাবে হাসপাতালের বাইরে চলে গেলেন? আধার কার্ডের মতো নথির কারণে কোনও অসুস্থ রোগীর ভর্তি প্রক্রিয়া কি আটকে যেতে পারে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, রোগীর শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখা হল না কেন?
পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক গৌরী মণ্ডল জানান, রেনুকে তাঁর দিদি জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর যথাযথ চিকিৎসা করা হয়েছিল। এরপর তাঁকে একটি ট্রিটমেন্ট সিট দিয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য উপরের ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।
চিকিৎসকের দাবি, আধার কার্ড সঙ্গে না থাকলেও জরুরি চিকিৎসা বন্ধ করা হয়নি। বরং পরে আধার কার্ড নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, জরুরি বিভাগের রোগীদের ক্ষেত্রে প্রথমে চিকিৎসা করা হয়, প্রয়োজনীয় নথি পরে আনার কথা বলা হয়। রেনুর ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে রেনু ও তাঁর দিদি কেন ওয়ার্ডে ভর্তি না হয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেলেন, সে বিষয়ে জরুরি বিভাগ থেকে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
হাসপাতালের বক্তব্যের পরেও অবশ্য একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। কী কারণে রেনুর ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হল না, আধার কার্ড নিয়ে ঠিক কী বলা হয়েছিল এবং কেন গুরুতর অসুস্থ রোগী হাসপাতালের গেটের বাইরে চলে গেলেন—এই সব বিষয়েই স্পষ্টতা প্রয়োজন।