East Bengal vs Mohun Bagan
মোহনবাগান ১ (মনবীর সিং)
ইস্টবেঙ্গল ১ (মহম্মদ বিলাল)
ডার্বি (East Bengal vs Mohun Bagan) মানেই আলাদা আবেগ, আলাদা চাপ। ম্যাচটি কলকাতা লিগের গ্রুপ পর্বের নিয়মরক্ষার হলেও ডুরান্ড কাপের সাম্প্রতিক ফলের কারণে বারাসত বিদ্যাসাগর স্টেডিয়ামের এই লড়াইয়ে উত্তেজনার কমতি ছিল না। শেষ পর্যন্ত অবশ্য জয় পেল না কোনও দল। ১-১ গোলে ড্র হল কলকাতা লিগের ডার্বি। তবে ফলের থেকেও বেশি আলোচনায় ইস্টবেঙ্গলের তরুণদের লড়াই।
ইস্টবেঙ্গল মূলত রিজার্ভ দলের তরুণদের নিয়েই মাঠে নামে। অন্যদিকে মোহনবাগানের প্রথম একাদশে ছিলেন একাধিক অভিজ্ঞ ফুটবলার—মনবীর সিং, শুভাশিস বসু, রাহুল ভেকে, আপুইয়া, সাহাল আবদুল সামাদরা। কাগজে-কলমে দুই দলের শক্তির ব্যবধান ছিল স্পষ্ট। কিন্তু মাঠে সেই ব্যবধান খুব একটা দেখা গেল না।
প্রথমার্ধে অবশ্য মোহনবাগানই বেশি নিয়ন্ত্রণে ছিল। ৩৮ মিনিটে মনবীর সিংয়ের গোলে এগিয়ে যায় সবুজ-মেরুন। ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার গৌরব শয়ের অবস্থান কাজে লাগিয়ে গোল করেন তিনি। বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মোহনবাগান।
বিরতির পর সম্পূর্ণ অন্য ছবি। ইস্টবেঙ্গলের তরুণরা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। একের পর এক আক্রমণে মোহনবাগানের রক্ষণকে চাপে ফেলে দেয় তারা। একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও প্রথমদিকে গোল আসেনি।
শেষ পর্যন্ত ৬৪ মিনিটে সেই কাঙ্ক্ষিত সমতা ফেরে। কর্নার থেকে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন পরিবর্ত হিসেবে নামা মহম্মদ বিলাল। তাঁর হেডে পরাস্ত হন মোহনবাগানের গোলকিপার দীপ্রভাত। ম্যাচ ১-১।
এরপর দুই দলই জয়সূচক গোলের চেষ্টা করলেও আর গোল হয়নি। শেষদিকে গৌরব শয়ের গুরুত্বপূর্ণ সেভও ইস্টবেঙ্গলকে ম্যাচে ধরে রাখে। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুই প্রধান।
লিগের অঙ্কে এই ড্র খুব বেশি পরিবর্তন আনেনি। দুই দলই আগেই সুপার সিক্সে জায়গা নিশ্চিত করেছিল। ড্রয়ের পর ইস্টবেঙ্গল ১১ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ১-এর শীর্ষে থেকে পরের পর্বে গেল।
তবে ইস্টবেঙ্গলের জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব অন্য জায়গায়। সিনিয়রদের অনুপস্থিতিতে তরুণরা যে বড় মঞ্চে চাপ সামলাতে পারে, তার প্রমাণ মিলল। অঙ্কন ভট্টাচার্য, তন্ময়, চাকু, আকাশ হেমব্রমদের পারফরম্যান্স বিশেষ নজর কেড়েছে। রিজার্ভ দলের এই পারফরম্যান্স আগামী দিনে সিনিয়র দলে সুযোগ পাওয়ার দাবিকে আরও জোরালো করতে পারে।
অন্যদিকে মোহনবাগানের জন্য ড্রটি কিছুটা হতাশার। প্রথম দলের একাধিক ফুটবলার খেলেও তুলনামূলক অনভিজ্ঞ ইস্টবেঙ্গল দলকে হারাতে পারেনি তারা। ফলে ফিটনেস, ম্যাচের তীব্রতা এবং শেষ পর্যন্ত জয়ের খিদে—সবই এখন আলোচনার বিষয়। ডার্বি হয়তো লিগের হিসাব বদলাল না, কিন্তু দুই দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে গেল।