• ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Nandigram Rejinagar bypolls 2026

পুজোর আগেই ফের ভোটের দামামা রাজ্যে, নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা

পুজোর আগেই পশ্চিমবঙ্গে ফের ভোট। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন, গণনা ও ফলপ্রকাশ ৯ অক্টোবর। শুভেন্দু অধিকারী ও হুমায়ুন কবীরের আসন ছেড়ে দেওয়ার জেরেই এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে।

পুজোর আগেই ফের ভোটের দামামা রাজ্যে, নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা

Nandigram Rejinagar bypolls 2026

Published by: cloud_admin
  • Posted:September 7, 2026 9:59 pm
  • Update:September 7, 2026 9:59 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

পুজোর আগেই ফের ভোটের দামামা বেজে গেল পশ্চিমবঙ্গে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগণনা এবং ফলপ্রকাশ হবে ৯ অক্টোবর। ফলে দুর্গাপুজোর আগেই দুই কেন্দ্র নতুন বিধায়ক পেতে চলেছে।

৬ অক্টোবর ভোট, ৯ অক্টোবর ফল

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ভোটগ্রহণ হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর। ১৭ সেপ্টেম্বর হবে মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি। প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ সেপ্টেম্বর। এরপর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা সামনে আসবে।

কমিশনের এই ঘোষণার পর দুই কেন্দ্রেই রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে চলেছে। কোন দল কাকে প্রার্থী করবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

কেন বিধায়কশূন্য নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে দুটি আসনের মধ্যে ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন তিনি। সেই কারণেই নন্দীগ্রাম আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও নওদা—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছাড়তে হওয়ায় তিনি রেজিনগর বিধানসভা আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে ওই আসনও বিধায়কশূন্য হয়ে পড়ে এবং সেখানে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

নন্দীগ্রামে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা

নন্দীগ্রাম বরাবরই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে ফের নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হওয়ার পর তিনি আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এবার নতুন করে ভোটের লড়াই হবে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন এবং তৃণমূলের পবিত্র করকে পরাজিত করেছিলেন। ফলে উপনির্বাচনে সেই রাজনৈতিক সমীকরণ কতটা বজায় থাকে, সেটিই এখন দেখার।

রেজিনগরেও লড়াই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ২০২৬ সালের নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন এবং ৫১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এবার তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনে কোন দল কতটা শক্তি দেখাতে পারে, তা নিয়ে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

অর্থাৎ, পুজোর আগে এই দুই উপনির্বাচন শুধু বিধায়ক নির্বাচনের লড়াই নয়, রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণেরও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে চলেছে। ৬ অক্টোবর ভোটের পর ৯ অক্টোবর ফলেই স্পষ্ট হবে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র।

আরও খবর