Shami Defends Virat Kohli
বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মার মন্দির দর্শন এবং আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজের কাছে যাওয়া নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে নানা মহলে আলোচনা চলছে। সামাজিক মাধ্যমে কেউ তাঁদের এই আধ্যাত্মিক জীবনযাপনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, আবার কেউ সমালোচনাও করেছেন। এবার সেই বিতর্কে মুখ খুললেন ভারতের অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ শামি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ব্যক্তিগত বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা সমালোচনা করার কোনও অধিকার কারও নেই।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কোহলি-আনুশকার আধ্যাত্মিক জীবন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শামি শুধু সতীর্থের পক্ষেই দাঁড়াননি, বরং ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতার পক্ষেও জোরালো বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য এখন ক্রিকেটপ্রেমী ও নেটমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বৃন্দাবনের আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মাকে একাধিকবার দেখা গেছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক একদিনের সিরিজ শেষ হওয়ার পরও তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন।
এই প্রসঙ্গেই শামিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিরাটের এই বিশ্বাস নতুন নয়। বহুদিন ধরেই তিনি নিজের আধ্যাত্মিক চর্চার প্রতি আন্তরিক।
শামির কথায়,
“এটা খুবই ভালো বিষয়। এটা হঠাৎ করে শুরু হয়নি। বিরাট খুব প্যাশনেট মানুষ। নিজের জীবনের প্রতি তাঁর স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তিনি সময় দেন, নিয়ম মেনে চলেন এবং যেটা বিশ্বাস করেন, সেটাকে গুরুত্ব দেন।”
শামির এই মন্তব্যের পর অনেকেই মনে করছেন, ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান করার সংস্কৃতিই প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর কথায়।
শুধু কোহলির প্রশংসাই নয়, সমালোচকদেরও কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন শামি।
তিনি বলেন,
“মহারাজের ব্যাপারে কারও আঙুল তোলার বা আপত্তি করার দরকার নেই। কেউ যদি কোনও কিছুতে বিশ্বাস করেন, তাহলে সেই বিশ্বাসকে সম্মান করা উচিত।”
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য প্রায়ই দেখা যায়। কোহলি-আনুশকার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে শামির মতে, ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় এবং সেটি নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা উচিত নয়।
ক্রিকেট মহলের একাংশও মনে করছে, একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক জীবনকে তাঁর পেশাদার পারফরম্যান্সের সঙ্গে মেলানো ঠিক নয়।
অনেকেই মনে করেন, আনুশকা শর্মার প্রভাবেই বিরাট কোহলি আধ্যাত্মিক জীবনের দিকে আরও বেশি ঝুঁকেছেন। এই প্রসঙ্গেও সরাসরি জবাব দিয়েছেন শামি।
তিনি বলেন,
“দুজন মানুষ যদি একসঙ্গে থাকেন এবং একজনের কথা শুনে আরেকজন কোনও ভালো কাজ করেন, তাহলে তাতে সমস্যা কোথায়? আমি বুঝতে পারি না।”
শামির এই মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি দাম্পত্য সম্পর্কে পারস্পরিক প্রভাবকে খুব স্বাভাবিক বলেই মনে করেন।
ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশও মনে করছেন, মাঠের বাইরের ব্যক্তিগত জীবন এবং আধ্যাত্মিক চর্চা একজন খেলোয়াড়কে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। বিরাট কোহলিও একাধিকবার জানিয়েছেন, জীবনের কঠিন সময়ে আধ্যাত্মিকতা তাঁকে মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।