• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Denis Undav World Cup

ডেনিস উন্দাভ: কারখানা শ্রমিক থেকে বিশ্বকাপের নায়ক, জার্মানির নতুন ভরসা

কারখানার শ্রমিক থেকে বিশ্বকাপের নায়ক। ডেনিস উন্দাভের জীবন সংগ্রাম, প্রত্যাখ্যান এবং জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের অনুপ্রেরণার গল্প।

ডেনিস উন্দাভ: কারখানা শ্রমিক থেকে বিশ্বকাপের নায়ক, জার্মানির নতুন ভরসা

Denis Undav World Cup

Published by: cloud_admin
  • Posted:June 27, 2026 11:57 am
  • Update:June 27, 2026 11:57 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: একসময় যাকে ফুটবল খেলার জন্য ‘অযোগ্য’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই ডেনিস উন্দাভ আজ জার্মানির বিশ্বকাপ অভিযানের অন্যতম বড় নায়ক (Denis Undav World Cup)। আর্থিক সংকট, প্রত্যাখ্যান আর কঠিন সংগ্রাম পেরিয়ে ২৯ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার এখন বিশ্বমঞ্চে নিজের সামর্থ্যের উজ্জ্বল প্রমাণ দিচ্ছেন।

ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জার্মানি যখন হার এড়াতে লড়ছে, ঠিক তখনই বদলি হিসেবে মাঠে নামেন উন্দাভ। ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়ে জোড়া গোল করেন তিনি। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি।

এই জয়ের ফলে ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে জার্মানি। আর ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন ডেনিস উন্দাভ।

এর আগেও বিশ্বকাপ অভিষেকে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন এই ফরোয়ার্ড। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বড় জয়ে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই গোল করার বিরল কৃতিত্ব গড়েছেন উন্দাভ। জার্মানির হয়ে সর্বশেষ এমন নজির গড়েছিলেন মিরোস্লাভ ক্লোসা, ২০০২ সালের বিশ্বকাপে।

তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। মাত্র ১৪ বছর বয়সে জার্মান ক্লাব ভার্ডার ব্রেমেন তাঁকে জানিয়ে দেয়, উচ্চতা কম হওয়ায় ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাঁর জায়গা নেই। অনেকেই তখন স্বপ্ন ছেড়ে দিতেন। কিন্তু উন্দাভ হার মানেননি।

শৈশব থেকেই সংগ্রাম ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। জার্মানির চতুর্থ বিভাগের ক্লাব হাভেলসেতে খেলতেন তিনি। সপ্তাহে মাত্র ১২০ পাউন্ড আয় হতো। সেই অর্থে সংসার চালানো সম্ভব ছিল না। তাই জীবিকার জন্য একটি কারখানায় লেজার মেশিন অপারেটর হিসেবেও কাজ করতে হয়েছে তাঁকে।

এক সাক্ষাৎকারে উন্দাভ বলেন, “ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে কারখানায় যেতাম। কাজ শেষ করে অনুশীলনে অংশ নিতাম। রাতে বাড়ি ফিরতে ফিরতে অনেক দেরি হয়ে যেত। পরদিন আবার একই রুটিন। বেঁচে থাকার জন্যই কাজটা করতে হয়েছিল।”

দীর্ঘ সংগ্রামের পর ২০২০ সালে বেলজিয়ামের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ইউনিয়ন সেন্ট-গিলোয় যোগ দেন তিনি। পরের মৌসুমেই দলকে শীর্ষ লিগে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন। এরপর বেলজিয়ামের শীর্ষ লিগে ২৫ গোল করে নজরে আসেন ইংলিশ ক্লাব ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের।

ইংল্যান্ডে অবশ্য প্রত্যাশামতো সাফল্য পাননি উন্দাভ। ২০২২-২৩ মৌসুমে ২২টি লিগ ম্যাচে মাত্র পাঁচ গোল করার পর তাঁকে ধারে পাঠানো হয় স্টুটগার্টে। সেখানেই বদলে যায় তাঁর ক্যারিয়ার। পরে জার্মান ক্লাবটি তাঁকে স্থায়ীভাবে দলে ভেড়ায়।

স্টুটগার্টে ২০২৫-২৬ মৌসুমে বুন্ডেসলিগায় ১৯ গোল করে লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। সেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে জায়গা পান জার্মানির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে।

বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন উন্দাভ। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে একুয়েডরের বিপক্ষে তাঁকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

কারখানার শ্রমিক থেকে বিশ্বকাপের নায়ক—ডেনিস উন্দাভের গল্প শুধু ফুটবলের নয়, এটি অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং কখনও হার না মানার এক অনন্য অনুপ্রেরণার গল্প।

আরও খবর