Vozinha Cape Verde
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: বিশ্বকাপে বড় অঘটন ঘটিয়ে স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে নবাগত কেপ ভার্দে। আর সেই ঐতিহাসিক ফলাফলের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এক ব্যক্তি— ৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক ভোজিনহা (Vozinha Cape Verde)। স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে তিনি শুধু নিজের দেশকেই প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট এনে দেননি, রাতারাতি হয়ে উঠেছেন বিশ্ব ফুটবলের নতুন নায়ক।
বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিরুদ্ধে মাঠে নামে কেপ ভার্দে। ম্যাচের আগে স্পেনকে পরিষ্কার ফেবারিট ধরা হলেও ভোজিনহার অনবদ্য গোলকিপিংয়ে শেষ পর্যন্ত ০-০ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল। ম্যাচে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন তিনি। মিকেল ওয়ারজাবাল, ফেরান তোরেসদের একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
ম্যাচ শুরুর আগে ইনস্টাগ্রামে ভোজিনহার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ হাজার। কিন্তু স্পেনের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই সংখ্যা বেড়ে ৫০ লাখেরও বেশি ছুঁয়ে যায়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা তাঁর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুসরণ করতে শুরু করেন। অনেকেই তাঁকে বিশ্বকাপের প্রথম বড় চমক এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম নায়ক হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ভোজিনহা। সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনের সময় তাঁকে চোখের জল ফেলতে দেখা যায়। কেপ ভার্দের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে পয়েন্ট অর্জনের স্মরণীয় মুহূর্তে নিজের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা জানান, এই অশ্রু ছিল অধ্যবসায়, সংগ্রাম এবং স্বপ্নপূরণের প্রতীক।
বিশ্বকাপের শুরুতেই ভোজিনহার (Vozinha Cape Verde) এই পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দিয়েছে, ফুটবলে শুধু বড় নাম নয়, বড় হৃদয় ও অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতাও ইতিহাস গড়তে পারে। কেপ ভার্দের জন্য তিনি এখন শুধু একজন গোলরক্ষক নন, জাতীয় নায়ক।