Oldest Players World Cup 2026
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: ফুটবলকে সাধারণত তরুণদের খেলা বলা হয়। গতি, ফিটনেস এবং ক্ষিপ্রতাই যেখানে সাফল্যের চাবিকাঠি, সেখানে ৪০ বছর পেরিয়ে বিশ্বকাপে খেলার কথা ভাবাই কঠিন। অথচ ২০২৬ বিশ্বকাপ সেই ধারণাকেই (Oldest Players World Cup 2026) বদলে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছেন আটজন ৪০ বা তার বেশি বয়সী ফুটবলার। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এক আসরে এত সংখ্যক চল্লিশোর্ধ খেলোয়াড় এর আগে কখনও দেখা যায়নি।
আরও অবাক করার মতো তথ্য হলো, বিশ্বকাপের আগের ২২টি আসর মিলিয়ে মোট সাতজন ৪০-ঊর্ধ্ব ফুটবলার অংশ নিয়েছিলেন। অর্থাৎ, একমাত্র ২০২৬ বিশ্বকাপেই সেই সংখ্যাকে ছাপিয়ে গিয়েছে ফুটবলের অভিজ্ঞ যোদ্ধারা।
আগের সাতজনের মধ্যে ছয়জনই ছিলেন গোলরক্ষক। ব্যতিক্রম ছিলেন ক্যামেরুনের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রজার মিলা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ৪২ বছর বয়সে গোল করে আজও তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতা।
এবার সেই রেকর্ড ভাঙা কঠিন হলেও কয়েকজন মহাতারকার সামনে রয়েছে ইতিহাস গড়ার সুযোগ। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, লুকা মদ্রিচ এবং এদিন জেকো যদি গোল করতে পারেন, তাহলে তারা রজার মিলার পর চল্লিশোর্ধ বয়সে বিশ্বকাপে গোল করা বিরল ফুটবলারদের তালিকায় নাম লেখাবেন।
এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়স্ক (Oldest Players World Cup 2026) খেলোয়াড় স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন। বয়স ৪৩। মাঠে নামার সুযোগ পেলে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বাধিক বয়সী ফুটবলার হিসেবে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নেবেন। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন মিশরের গোলরক্ষক এসাম এল হাদারি, যিনি ২০১৮ বিশ্বকাপে ৪৫ বছর বয়সে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন।
গোলরক্ষকদের বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সে তিনি রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায়। একই কীর্তির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন মেক্সিকোর গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি বিশ্বকাপ চলাকালীন ৩৯ বছরে পা দেবেন এবং তিনিও ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনন্য রেকর্ডের খুব কাছাকাছি।
চল্লিশোর্ধ খেলোয়াড়দের তালিকায় আরও রয়েছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভসিনিয়া, জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ার এবং উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা, যিনি বিশ্বকাপ চলাকালীন ৪০তম জন্মদিন পালন করবেন।
ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে এই অভিজ্ঞ তারকাদের উপস্থিতি প্রমাণ করছে, আধুনিক ফিটনেস, পুষ্টি ও খেলাধুলার বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে বয়স আর আগের মতো বড় বাধা নয়। ২০২৬ বিশ্বকাপ তাই শুধু তরুণদের নয়, অভিজ্ঞতারও এক মহোৎসব হতে চলেছে।