Argentina Penalty Shootout
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: আর মাত্র ৫ দিন পরই শুরু হতে চলেছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন উপলক্ষে ক্লাউড টিভির বিশেষ ধারাবাহিকে প্রতিদিন তুলে ধরা হচ্ছে বিশ্বকাপের ইতিহাসের এক একটি চমকপ্রদ পরিসংখ্যান (Argentina Penalty Shootout)।
আজকের পর্বে থাকছে টাইব্রেকারের গল্প। এমন এক পরিসংখ্যান, যেখানে অন্য সব দেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা।
ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ম্যাচ নিষ্পত্তির জন্য টাইব্রেকার চালু হয় ১৯৭৮ সালের আসরে। তারপর থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে যত টাইব্রেকার হয়েছে, তার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনার নাম।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সাতবার টাইব্রেকারে গিয়েছে আর্জেন্টিনার ম্যাচ। ৭৪টি দেশ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও এতবার টাইব্রেকারে জড়ানোর অভিজ্ঞতা আর কোনও দেশের নেই। তুলনায় ব্রাজিল, ফ্রান্স এবং স্পেনের ম্যাচ পাঁচবার করে টাইব্রেকারে গিয়েছে।
আরও অবাক করার মতো তথ্য হলো, সাতটি টাইব্রেকারের মধ্যে ছয়টিতেই জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। অর্থাৎ টাইব্রেকারে তাদের সাফল্যের হার প্রায় ৮৬ শতাংশ।
১৯৯০ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে যুগোস্লাভিয়াকে এবং সেমিফাইনালে স্বাগতিক ইতালিকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছিল আর্জেন্টিনা। সেই আসরে গোলরক্ষক Sergio Goycochea হয়ে উঠেছিলেন জাতীয় নায়ক।
১৯৯৮ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নাটকীয় টাইব্রেকার জিতে শেষ আটে উঠেছিল আলবিসেলেস্তেরা। এরপর ২০১৪ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে এবং ২০২২ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারায় তারা।
সবচেয়ে স্মরণীয় জয় অবশ্য আসে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার একমাত্র পরাজয় আসে ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে। স্বাগতিক জার্মানির কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের। সেই ম্যাচের পর জার্মান গোলরক্ষক Jens Lehmann এবং তাঁর হাতে থাকা ছোট্ট একটি কাগজ বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সেই কাগজে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের পেনাল্টি (Argentina Penalty Shootout) নেওয়ার সম্ভাব্য দিক লেখা ছিল বলে জানা যায়।
টাইব্রেকারে সবচেয়ে বেশি শট ঠেকানোর বিশ্বকাপ রেকর্ডও রয়েছে আর্জেন্টিনার এক গোলরক্ষকের দখলে। ১৯৯০ বিশ্বকাপের নায়ক সের্হিও গায়কোচিয়া সর্বাধিক পেনাল্টি সেভের রেকর্ডের যৌথ মালিক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পশ্চিম জার্মানির Harald Schumacher (টনি শুমাখার নামে পরিচিত), ক্রোয়েশিয়ার Danijel Subašić এবং Dominik Livaković।
অন্যদিকে, টাইব্রেকারে শতভাগ সাফল্যের নজির গড়েছে জার্মানি ও ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বকাপে চারবার করে টাইব্রেকারে গিয়েছে দুই দেশই এবং প্রতিবারই জয় পেয়েছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্মানদের টাইব্রেকার রেকর্ড আরও ভয়ঙ্কর। তারা মোট ১৮টি পেনাল্টি নিয়েছে, যার মধ্যে ১৭টিই জালে পাঠিয়েছে। সবশেষ ১৫টি শট টানা সফল হয়েছে।
বিশ্বকাপ মানেই নাটক, উত্তেজনা এবং অনিশ্চয়তা। আর সেই নাটকের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের নাম টাইব্রেকার। সেই অধ্যায়ে আর্জেন্টিনার নাম লেখা আছে সবচেয়ে উজ্জ্বল অক্ষরে।