• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Japan vs Spain World Cup 2022

ফুটবল বিশ্বকাপের স্মরণীয় গল্প: ১৮ শতাংশ পজেশন, তবু স্পেনকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল জাপান

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মাত্র ১৮ শতাংশ বল দখলে রেখেও স্পেনকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল জাপান। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত কম পজেশন নিয়ে জয়ের নজির আর নেই।

ফুটবল বিশ্বকাপের স্মরণীয় গল্প: ১৮ শতাংশ পজেশন, তবু স্পেনকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল জাপান

Japan vs Spain World Cup 2022

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 30, 2026 5:01 pm
  • Update:May 30, 2026 5:01 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে শক্তিশালী দলগুলোর আধিপত্য নতুন কিছু নয়। তবে মাঝে মধ্যেই এমন কিছু ম্যাচ উপহার দেয় বিশ্বকাপ, যা বছরের পর বছর ধরে আলোচনায় থাকে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে জাপানের অবিশ্বাস্য জয় (Japan vs Spain World Cup 2022) ছিল তেমনই এক ঘটনা। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপের অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে আজ ফিরে দেখা সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ।

২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর, কাতারের খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন ও জাপান। ম্যাচের আগে ফেভারিট ছিল স্পেনই। বিশ্বকাপজয়ী দল, তারকা ফুটবলার আর বল দখলের ফুটবলে দক্ষ স্প্যানিশদের বিপক্ষে জাপানের সম্ভাবনা খুব বেশি দেখছিলেন না অনেকেই।

ম্যাচের ১১ মিনিটেই আলভারো মোরাতার গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। এরপর প্রথমার্ধ জুড়ে বলের দখল এবং আক্রমণের ধার বজায় রাখে লা রোজা। পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ম্যাচে স্পেনের পজেশন ছিল ৮২ শতাংশ, বিপরীতে জাপানের মাত্র ১৮ শতাংশ। অথচ শেষ হাসিটা হেসেছিল এশিয়ার প্রতিনিধিরাই।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৪৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা রিতসু দোয়ান দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৫১ মিনিটে আও তানাকার গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জাপান। গোলটি নিয়ে কিছুক্ষণ বিতর্ক তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ভিএআরের সিদ্ধান্তে গোল বহাল থাকে।

বাকি সময় স্পেন একের পর এক আক্রমণ চালালেও জাপানের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ আর গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় আর গোল পায়নি। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্লু সামুরাইরা।

এই জয় শুধু তিন পয়েন্টের ছিল না, ছিল ইতিহাস গড়ারও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত কম পজেশন (১৮ শতাংশ) নিয়ে ম্যাচ জয়ের নজির এর আগে দেখা যায়নি। জাপান দেখিয়ে দিয়েছিল, ফুটবলে বলের দখল সবসময় ফল নির্ধারণ করে না; কার্যকর আক্রমণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং সুযোগের সদ্ব্যবহারই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে।

আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, ওই বিশ্বকাপের আগে ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে জাপানের রেকর্ড খুব একটা উজ্জ্বল ছিল না। ২০১০ বিশ্বকাপে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে জয়ের পর ইউরোপের বড় দলগুলোর বিপক্ষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য খুব কমই ছিল তাদের। কিন্তু কাতারে তারা শুধু স্পেনকেই নয়, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকেও হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেয়।

গ্রুপ ‘ই’-তে জার্মানি ও স্পেনের মতো দুই পরাশক্তিকে পিছনে ফেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ষোলোয় উঠেছিল জাপান। যদিও নকআউট পর্বে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়। তবু স্পেনের বিপক্ষে সেই জয় আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা অঘটন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে সেই ম্যাচ ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দেয়— বিশ্বকাপ মানেই অপ্রত্যাশিত গল্প, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন এবং অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার মঞ্চ।

আরও খবর