সরকারি হাসপাতালে পুজোর ছুটি
দুর্গাপুজোর সময় থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের টানা ছুটি নেওয়ার রেওয়াজ আগামী বছর থেকে বন্ধ হবে বলে ঘোষণা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। শুক্রবারের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত হাসপাতালের সকল কর্মীর জন্য পুজোর রস্টার তৈরি করা হবে।
চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য আলাদা রস্টার থাকবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের হাসপাতালে উপস্থিত থাকতে হবে বলে জানানো হয়েছে। পুজো উপলক্ষে আগেভাগে ছুটি নেওয়ার সুযোগও থাকবে না। ইতিমধ্যে যাঁরা ছুটিতে রয়েছেন, তাঁদের ছুটি বাতিল করে ঘোষণার দিন থেকেই কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৯৪৭ সালের পর থেকে রাজ্যে ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটির একটি অঘোষিত রেওয়াজ চলে আসছিল। তাঁর কথায়, “স্বাস্থ্যদপ্তর বাকি আর পাঁচটা দপ্তরের মতো নয়। এটি আপতকালীন দপ্তর। এখানে ৭ দিনে ২৪ ঘণ্টা মানুষের পরিষেবা দিতে হয়।”
চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর শহরের বড় পুজোমণ্ডপগুলিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিক্যাল টিম তৈরি করা হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক ও অন্যান্য আধিকারিকদের অনুপস্থিতি এবং অনুমতি না নিয়ে ছুটি নেওয়ার অভিযোগ নজরে আসে। এরপর স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, পরেরবার থেকে সপ্তমী থেকে দশমী হাসপাতালের সকলের জন্য পুজোর রস্টার হবে। তাঁর বক্তব্য, স্বাস্থ্যদপ্তরকে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা দিতে হয়। সেই কারণে দুর্গাপুজো থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটির রেওয়াজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।