বিডিও প্রশান্ত বর্মন
স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও খুনের মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের আত্মসমর্পণের নির্দেশ মানেননি রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া প্রশান্তের মামলা খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে অবিলম্বে পদক্ষেপ করতে রাজ্যকে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।
কলকাতা হাই কোর্ট গত মঙ্গলবার প্রশান্ত বর্মনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাঁর আত্মসমর্পণ করার কথা ছিল। আত্মসমর্পণ না করলে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং বেতন বন্ধের নির্দেশও দিয়েছিল হাই কোর্ট।
প্রশান্ত সেই নির্দেশ মানেননি। বরং হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি ওঠে।
বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ প্রশান্তের মামলা খারিজ করে রাজ্যকে হাই কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে বলে। শুনানিতে আদালত মন্তব্য করে, “একজন ব্যক্তি পুরো সিস্টেমকে উপহাস করে রেখে দিয়েছেন।”
সুপ্রিম কোর্ট আরও বলে, “আপনারা কী করছেন? হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে এখনই পদক্ষেপ করুন।” আদালতের বক্তব্য অনুযায়ী, আগে নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তা অমান্য করা হয়েছে।
বিধাননগরের দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও খুনের অভিযোগের তদন্তভার গত জুলাইয়ে নেয় সিআইডি। মামলায় প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও তাঁকে গ্রেফতার করা যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বেতনও নিচ্ছেন।
গত ১০ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাই কোর্টে মামলার শুনানিতে সিআইডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী বলেন, “বিডিওর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা রয়েছে, অথচ সিআইডি বলছে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের হুঁশ নেই কেন?”