অর্ণব নিম্নচাপ পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টি
মঙ্গলবার গভীর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশ ও পুদুচেরির মাঝখান দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশের পর ঘূর্ণিঝড় অর্ণব শক্তি হারিয়ে প্রথমে গভীর নিম্নচাপ এবং পরে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে নিম্নচাপটি দক্ষিণ ছত্তীসগঢ় এবং লাগোয়া দক্ষিণ ওড়িশার উপর অবস্থান করছিল। এটি ঘণ্টায় ২২ কিলোমিটার বেগে উত্তর দিকে এগোচ্ছে।
নিম্নচাপটি ছত্তীসগঢ়ের জগদলপুর থেকে ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং রায়পুর থেকে ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে রয়েছে। অর্ণব অন্ধ্রপ্রদেশের কাকীনাডার কাছে পুদুচেরির ইয়ানামের নিকট দিয়ে স্থলভাগে ঢোকে। স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঝড়টির বাতাসের বেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার হয়েছিল।
অর্ণবের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি এবং ঝড় হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে গাছপালা, উড়ান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ট্রেন পরিষেবা ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এবং গাছ পড়ে অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর রয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা টিডিপি নেতা চন্দ্রবাবু নায়ডু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য কেন্দ্রীয় সাহায্য চেয়েছেন। অন্য দিকে, ওয়াইএসআর কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, অন্ধ্রপ্রদেশের সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। কলকাতায় সারা দিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। পূর্ব সিকিমে তুষারপাত হয়েছে এবং নাথুলা ও ছাঙ্গু বরফে ঢেকেছে।
বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূলের মৎস্যজীবীদের বৃহস্পতিবার সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য ঝোড়ো হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার হতে পারে।