চোরবাগান মণ্ডপ বিপর্যয়
চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোর মণ্ডপ বিপর্যয়ের আগে ও পরে মাইকে কী ঘোষণা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে গ্রেফতার হওয়া দুই ঘোষককে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বা ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’ বলে ঘোষণা করার অভিযোগে সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু এবং কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোয় মাইকে ঘোষণার মূল দায়িত্বে ছিলেন সেন্টু। তাঁকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। পরে শুক্রবার সকালে গ্রেফতার করা হয় কালিয়াকে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, ঠিক কখন ঘোষণা করা হয়েছিল, কে সেই ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং মণ্ডপ বিপর্যয়ের সময়ের সঙ্গে ঘোষণার ঘটনাক্রমের কী সম্পর্ক ছিল।
কালিয়ার দাবি, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে ক্লাবে গিরিশ পার্ক থানার ‘বড়বাবু এবং ছোটবাবু’ উপস্থিত ছিলেন। তাঁর দাবি, মণ্ডপের পিছনের অংশ ভেঙে পড়েছে জানতে পেরে এবং পুলিশের এক জনের নির্দেশে তিনি মাইকে ঘোষণা করেন। কালিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে বলা হয়েছিল, ‘আপনারা মাইকিং করুন।’ ঘোষককে না পেয়ে তিনি ঘোষণা করেছিলেন বলেও তাঁর দাবি।
কালিয়ার ফেসবুক হ্যান্ডল থেকে হাতে লেখা একটি নোট-সহ একাধিক পোস্ট করা হয়েছিল। সেই নোটে বলা হয়েছে, শব্দ শোনার ১০-১৫ মিনিট আগে তিনি এবং ক্লাবের অন্য এক সদস্য চা আনতে গিয়েছিলেন। এই বক্তব্যগুলিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
মাইকে ঘোষণার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে আরও আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর খবর মেলে এবং আহত হন আরও অনেকে। বিপর্যয়ের পর ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করা হয়নি।
শনিবার ব্যাঙ্কশাল আদালত কালিয়াকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। অন্য দিকে, সোনারপুরের বাসিন্দা সুদীপ্ত হালদার দাবি করেছেন, আহত দুই বোনের নাম আহতদের তালিকায় নেই। তিনি তাঁদের নাম ও নথি পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন।