ইরানে ফের মার্কিন অভিযান
ইরানে ফের সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ফ্লোরিডার একটি সভায় এবং হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, আমেরিকা যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে পারে। তবে সংঘাত শেষ করা হবে, নাকি ধীরে ধীরে তা স্তিমিত হতে দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ট্রাম্প সম্ভাব্য নতুন অভিযানকে “আরেকটি ছোট Epic Fury” বলে উল্লেখ করেন। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল Epic Fury। তিনি বলেন, “আমরা খুব দ্রুত এটি শেষ করতে পারি।” একই সঙ্গে ট্রাম্প জানান, আমেরিকা যা চায়, তা পাচ্ছে।
যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং সংঘাতটি আট মাসের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে ফের হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন ও ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আমেরিকা ইরানে হামলা চালাবে না।
দুই প্রবীণ ইরানি নিরাপত্তা আধিকারিকের দাবি, আমেরিকা ও ইজরায়েল ফের হামলা চালালে উপসাগরের সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবল নিশানা করার পরিকল্পনা করেছে তেহরান। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডসের উপপ্রধান ইয়াদোল্লাহ জাভানি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নীচে থাকা সাতটি বড় ইন্টারনেট কেবল লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
এক ইরানি আধিকারিকের বক্তব্য, কেবল কেটে দেওয়ার পর মেরামতের কাজও ঠেকানোর চেষ্টা করা হতে পারে, যার ফলে যোগাযোগে বিঘ্ন দীর্ঘায়িত হবে। ইরানি আধিকারিকেরা উপসাগরজুড়ে মার্কিন-সংযুক্ত ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং সামরিক ঘাঁটিগুলিকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিদেশমন্ত্রীদের আলোচনায় সতর্ক করা হয়েছে, নতুন আক্রমণ সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়াতে পারে। তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সংঘাত শেষ করার একমাত্র পথ কূটনীতি ও সংলাপ। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, তুরস্ক, মিশর, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও ইতালির বিদেশমন্ত্রীরা ইস্তানবুলে কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নেন।
ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেছেন, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আরও উত্তেজনা হলে কোনও পক্ষই জয়ী হবে না এবং জ্বালানির দামে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। সমুদ্রতলের কেবল বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ট্র্যাফিকের প্রায় ৯৯ শতাংশ বহন করে। তবে অ্যালান মলডিনের মতে, হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের এক শতাংশেরও কম যায়। সম্ভাব্য আরও গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির জায়গা হিসেবে লোহিত সাগরের কথাও বলা হয়েছে।
ইরানের হামলায় মার্চে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে Amazon Web Services-এর দুটি পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। বাহরাইনে তাদের একটি পরিকাঠামোর কাছেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। Microsoft ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্রতল ও স্থলভিত্তিক সংযোগ পরিকাঠামোয় ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।