UAE cancels Bangladeshi visas
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি বা UAE-তে কর্মরত ৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিলের খবর সামনে এসেছে। তাঁদের অনেকেই ছুটি কাটাতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু দেশে থাকার সময়ই তাঁদের রেসিডেন্সি বা কাজের ভিসা বাতিল হয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে তাঁরা আর UAE-তে নিজেদের কর্মস্থল, ব্যবসা কিংবা পরিবারের কাছে ফিরতে পারছেন না।
The Daily Star-এর ১৪-১৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজারের বেশি। অন্য কিছু প্রতিবেদনে সংখ্যাটি প্রায় ৫ হাজার বলা হয়েছে। তবে ঠিক কতজনের ভিসা বাতিল হয়েছে, তা নিয়ে এখনও বিভিন্ন রিপোর্টে পার্থক্য রয়েছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে সেই বাংলাদেশিদের নিয়ে, যাঁরা UAE-তে দীর্ঘদিন ধরে কাজ বা ব্যবসা করছেন। অনেকে নিয়মিত ছুটিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তাঁদের বৈধ ভিসার মেয়াদ থাকার পরেও হঠাৎ বাতিলের তথ্য সামনে এসেছে বলে আক্রান্তদের অভিযোগ।
ফলে তাঁদের চাকরি এবং আয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারও পরিবার UAE-তে রয়েছে। কারও আবার ব্যবসা বা কর্মস্থল সেখানে। কিন্তু নতুন পরিস্থিতিতে তাঁরা বাংলাদেশ থেকেই ফিরতে পারছেন না।
তবে কেন এতগুলি ভিসা বাতিল হয়েছে, তার কোনও স্পষ্ট কারণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে বাড়তি যাচাই বা scrutiny-র প্রেক্ষাপটে দেখা হলেও UAE কর্তৃপক্ষের তরফে এই নির্দিষ্ট বাতিলগুলির কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি UAE কর্তৃপক্ষের কাছে তুলেছে এবং বাতিল হওয়া ভিসাগুলি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে। কারণ এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু কয়েক হাজার কর্মীর উপর নয়, তাঁদের পরিবারের উপরেও পড়ছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়েও UAE-তে বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিল নিয়ে প্রায় ৫ হাজারের একটি সংখ্যা ছড়িয়েছিল। সেই সময় বাংলাদেশের সরকারি পক্ষ জানিয়েছিল, প্রকৃত সংখ্যা ছিল ৬২৬ এবং সেগুলি বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে করা কোনও দেশভিত্তিক পদক্ষেপ ছিল না।
UAE দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। তবে গত কয়েক বছরে নতুন ভিসা এবং কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধের মুখে পড়েছেন। The Business Standard-এর আগের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে UAE-তে বাংলাদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়ায় অনানুষ্ঠানিক বাধা তৈরির অভিযোগ ছিল।
এখন কয়েক হাজার বিদ্যমান ভিসা বাতিলের ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আক্রান্ত প্রবাসীরা তাঁদের চাকরিতে ফিরতে পারবেন কি না এবং UAE কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের কূটনৈতিক অনুরোধের পর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে কি না।
এই মুহূর্তে ঢাকার নজর তাই UAE-র পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। একই সঙ্গে ভিসা বাতিলের প্রকৃত কারণ এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা সম্পর্কে আরও সরকারি ব্যাখ্যার অপেক্ষা রয়েছে।