• ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Iran captures US submarine drone

হরমুজে মার্কিন ‘সাবমেরিন’ দখলের দাবি ইরানের, আমেরিকার পাল্টা দাবি—‘একদিন আগেই বিকল হয়েছিল’

হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন একটি মনুষ্যবিহীন আন্ডারওয়াটার ড্রোন দখলের দাবি করেছে ইরান। ইরানের দাবি, এটি অত্যাধুনিক Dive-LD। তবে আমেরিকার পাল্টা বক্তব্য, তাদের একটি পুরনো আন্ডারওয়াটার ড্রোন এক দিনেরও বেশি আগে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়েছিল এবং তাতে কোনও সংবেদনশীল সামরিক তথ্য ছিল না।

হরমুজে মার্কিন ‘সাবমেরিন’ দখলের দাবি ইরানের, আমেরিকার পাল্টা দাবি—‘একদিন আগেই বিকল হয়েছিল’

Iran captures US submarine drone

Published by: cloud_admin
  • Posted:September 9, 2026 1:37 pm
  • Update:September 9, 2026 1:37 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে। ইরান দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখ থেকে একটি মার্কিন অত্যাধুনিক মনুষ্যবিহীন সাবমেরিন বা আন্ডারওয়াটার ড্রোন দখল করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, একটি জটিল গোয়েন্দা ও সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ওই যানটি তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পরে ইরানি সংবাদমাধ্যমে সেটির ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করা হয়।

তবে ইরানের এই দাবিকে ভিন্নভাবে দেখছে আমেরিকা। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে ‘malfunction’ বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। মার্কিন বক্তব্য অনুযায়ী, সেটি ছিল পুরনো মডেলের একটি ড্রোন এবং তাতে কোনও সংবেদনশীল তথ্য, শ্রেণিবদ্ধ সোনার বা রাডার প্রযুক্তি ছিল না।

ইরানের দাবি, ‘অত্যাধুনিক’ মার্কিন ড্রোন দখল

IRGC-এর বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখে একটি ‘অত্যাধুনিক, স্মার্ট এবং মনুষ্যবিহীন’ মার্কিন সাবমেরিন আটক করা হয়েছে। ইরানের দাবি, এটি একটি Dive-LD আন্ডারওয়াটার ভেহিকল। ইরানি কর্তৃপক্ষ এটিকে বিশ্বের আধুনিকতম সাবসারফেস প্রযুক্তির অন্যতম উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

Dive-LD তৈরি করেছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থা Anduril। এটি প্রচলিত অর্থে মানুষ বহনকারী সাবমেরিন নয়; বরং একটি Autonomous Underwater Vehicle (AUV)। সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা নজরদারি, মাইন শনাক্তকরণ এবং সাবমেরিন কেবল বা পাইপলাইনের মতো পানির নিচের পরিকাঠামো পরিদর্শনের কাজে এ ধরনের যান ব্যবহার করা যায়। Reuters-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, Dive-LD প্রায় ১৯ ফুট বা ৫.৮ মিটার দীর্ঘ এবং একটানা প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত ঘাঁটিতে না ফিরেও কাজ করতে পারে।

আমেরিকার পাল্টা দাবি—‘বিকল হয়ে জলে পড়েছিল’

ইরানের ভিডিও প্রকাশের পর মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন আঞ্চলিক জলসীমায় নজরদারি চালানোর সময় এক দিনেরও বেশি আগে বিকল হয়ে যায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, সেটি ছিল পুরনো মডেল এবং কোনও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছিল না। ড্রোনটিতে শ্রেণিবদ্ধ সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না।

তবে আমেরিকা সরাসরি বলেনি যে ইরানের হাতে থাকা যানটিই সেই বিকল হয়ে যাওয়া ড্রোন কি না। ফলে ইরানের ‘দখল’ এবং আমেরিকার ‘বিকল’—দুই দাবির মধ্যে এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

হরমুজ ঘিরে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা?

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি বড় অংশ এই সরু জলপথের উপর নির্ভরশীল। ফলে সেখানে মার্কিন ও ইরানি সামরিক উপস্থিতির মধ্যে যে কোনও ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।

এরই মধ্যে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানি রেভলিউশনারি গার্ডের হামলার পর পাঁচটি ইরানি ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে IRGC দাবি করেছে, তারা হরমুজের কাছে একটি MQ-9 Reaper ড্রোনও ভূপাতিত করেছে। ফলে সামুদ্রিক ও আকাশপথ—দুই ক্ষেত্রেই সংঘাতের মাত্রা বাড়ছে।

আরও খবর