ISRO privatisation rumours
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO-কে বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে—এমন জল্পনা এবং কর্মীদের উদ্বেগের মধ্যেই স্পষ্ট বার্তা দিলেন সংস্থার চেয়ারম্যান ড. ভি. নারায়ণন। বেঙ্গালুরু স্পেস এক্সপো-তে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ISRO বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে না। এটি আগের মতোই একটি সরকারি সংস্থা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে যাবে।
ISRO চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় বছর আগে মহাকাশ ক্ষেত্রে যে সংস্কার শুরু হয়েছিল, তার লক্ষ্য ছিল ISRO-কে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া নয়। বরং মহাকাশ শিল্পে আরও বেশি বেসরকারি সংস্থাকে যুক্ত করে গোটা পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করা।
বর্তমানে প্রায় ৪৫০টি সংস্থা ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। লঞ্চ সংক্রান্ত কাজেও বেসরকারি শিল্পের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জানা গিয়েছে, লঞ্চ বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশের সঙ্গে এখন বেসরকারি সংস্থাগুলি যুক্ত।
ISRO-র বক্তব্য, মহাকাশ পরিষেবার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উপগ্রহের প্রয়োজন ক্রমশ বাড়ছে। ফলে শুধুমাত্র ISRO-র পক্ষে প্রতিটি কাজ সরাসরি পরিচালনা করা বাস্তবসম্মত নয়।
বেসরকারি শিল্পকে রুটিন এবং বাণিজ্যিক কাজের বড় অংশে যুক্ত করার ফলে ISRO তার মূল দক্ষতা এবং অত্যাধুনিক মিশনের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারছে।
মানুষকে মহাকাশে পাঠানোর Gaganyaan মিশন, ভবিষ্যতের ভারতীয় স্পেস স্টেশন এবং অন্যান্য উচ্চাভিলাষী মহাকাশ প্রকল্পের মতো কাজকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সংস্থা।
ISRO চেয়ারম্যানের বক্তব্যে স্পষ্ট, বেসরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকা বৃদ্ধি আসলে সংস্থার দায়িত্ব কমানোর পরিবর্তে ভারতের সামগ্রিক মহাকাশ সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশলের অংশ।
ভারতের মহাকাশ অর্থনীতি বর্তমানে প্রায় ৮–৯ বিলিয়ন ডলারের। আগামী কয়েক বছরে সেটিকে ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রায় ৪০–৪৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
এই সম্প্রসারণে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি মহাকাশ কোম্পানিগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ISRO-ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রুটিন কাজ শিল্পক্ষেত্রে হস্তান্তর করছে।
ISRO ইতিমধ্যেই বেসরকারিকরণের জল্পনাকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে। সংস্থার অবস্থান, সরকারি নেতৃত্বাধীন ISRO এবং বেসরকারি মহাকাশ শিল্প—দুইয়ের সমন্বয়েই ভারতের মহাকাশ খাত আগামী দিনে আরও বড় হয়ে উঠবে।